প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে দারুণ আত্মবিশ্বাসী আলবিসেলেস্তেরা। জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
এই জয়ের দিনে ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফিরে গোল পেয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। একই সঙ্গে গড়েছেন অনন্য এক রেকর্ডও।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অষ্টম মিনিটেই ভ্যালেন্টিন বার্কোর গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। আইসল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার বাঁ পায়ের শট সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়।
বিরতির আগে ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে তা কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে তারা।
ম্যাচের আসল রোমাঞ্চ জমা ছিল ৬৯তম মিনিটের জন্য। দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পর বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। মাঠে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিজের জাদু দেখান আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। তার নিখুঁত থ্রু পাস থেকে বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হন লাউতারো মার্তিনেজ। পেনাল্টি থেকে দুর্দান্ত শটে লক্ষ্যভেদ করেন মেসি। এটি ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১১৭তম গোল।
এই গোলের মাধ্যমেই ইতিহাস গড়েন ৩৮ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ডে তিনি পেছনে ফেলেছেন ১৯৫৭ সালের কিংবদন্তি আনহেল লাব্রুনাকে।
ম্যাচের শেষ দিকে আসে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোল। মেসির বাড়ানো বল থেকে রদ্রিগো দি পল হয়ে থিয়াগো আলমাদার পায়ে লেগে বল জড়িয়ে যায় আইসল্যান্ডের জালে। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের স্বচ্ছন্দ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
এই জয় যে আলবিসেলেস্তেদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, তা তাদের টানা সপ্তম জয়ের পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এমন পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা। অন্যদিকে, টানা ছয় ম্যাচে জয়হীন থাকা আইসল্যান্ডের জন্য এই হার নতুন করে ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এখন আর্জেন্টিনার লক্ষ্য ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্ব, যেখানে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া।