যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহেও বিশ্বকাপ ঘিরে ইরানের ফুটবল উন্মাদনায় কোনো ভাটা পড়েনি। দেশের ফুটবলপ্রেমীরা বলছেন, রাজনৈতিক বাস্তবতা যতই জটিল হোক, বিশ্বকাপের মঞ্চে জাতীয় দলকে দেখতে তারা বরাবরের মতোই রোমাঞ্চিত ও গর্বিত।
তেহরান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিরশাদ মাজেদি বলেন, ‘খেলাধুলা, বিশেষ করে ফুটবল, আমাদের রক্তের সঙ্গে মিশে আছে।’ তার মতে, সংকটের সময়েও ফুটবল মানুষকে একত্রিত করে, হতাশার মধ্যে আশার আলো দেখায় এবং জাতীয় পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে কাজ করে।
বিশ্বকাপের আগে ইরানের প্রস্তুতি অবশ্য সহজ ছিল না। যুদ্ধ পরিস্থিতি, ভিসা জটিলতা, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিতর্ক এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে দলটিকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবুও অধিকাংশ সমর্থক জাতীয় দলের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। যদিও কিছু সমর্থক দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় দলের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নিয়ে অস্বস্তির কথাও প্রকাশ করেছেন।
তবে মাঠের ফুটবল যে সব বিভাজনকে ছাপিয়ে যেতে পারে, তার বড় প্রমাণ মিলেছে মেক্সিকোতে ইরান দলের আগমনের সময়। বিশ্বকাপ খেলতে দেশটিতে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দর ও দলীয় হোটেলের বাইরে শত শত ইরানি সমর্থক জড়ো হন। জাতীয় পতাকা, ব্যানার এবং দলীয় জার্সিতে সজ্জিত ভক্তরা স্লোগান ও গান গেয়ে খেলোয়াড়দের স্বাগত জানান। প্রবাসী ইরানিদের পাশাপাশি স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অনেক সমর্থক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে খেলোয়াড়দের এক ঝলক দেখার চেষ্টা করেন।
এর আগে তেহরানেও জাতীয় দলকে বিশ্বকাপের উদ্দেশে বিদায় জানাতে হাজারো সমর্থকের ঢল নামে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। সমর্থকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেমনই হোক, বিশ্বকাপের সময় জাতীয় দলের জার্সিই তাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। সূত্র: আলজাজিরা