বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো যেমন ছড়িয়ে আছে তিন দেশ আর ১৬টি ভেন্যুতে, তেমনি ছুটে বেড়াচ্ছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ৪৮ দলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহেই তিনি যেন হয়ে উঠেছেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ব্যস্ত ভ্রমণকারী।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন ইনফান্তিনো। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম পরিদর্শন থেকে শুরু হয় তার ব্যস্ততা। ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালসহ মোট আটটি ম্যাচ হবে এই স্টেডিয়ামে। এমনকি মাঠ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে লাইন আঁকার কাজেও তাকে দেখা যায়।
১১ জুন মেক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন বিশ্বকাপ সফর। স্বাগতিক মেক্সিকোর উদ্বোধনী জয়ের সাক্ষী হওয়ার পরই উড়ে যান গুয়াদালাহারায়, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেকিয়ার লড়াই উপভোগ করেন।
এরপর ফের যুক্তরাষ্ট্র। লস অ্যাঞ্জেলেসে স্বাগতিকদের প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বড় জয়ের ম্যাচ দেখার পাশাপাশি সময় বের করে সাক্ষাৎ করেন সংগীত তারকা জাস্টিন বিবার-এর সঙ্গে। পরদিন সান ফ্রান্সিসকোতে কাতার-সুইজারল্যান্ড ম্যাচ দেখে আবার দীর্ঘ উড়াল ভ্যাঙ্কুভারের পথে, অস্ট্রেলিয়া-তুরস্ক ম্যাচ দেখতে।
১৫ জুন বিশ্বকাপের ম্যাচ থেকে সাময়িক বিরতি নেন তিনি। তবে বিশ্রাম নয়, মিয়ামিতে আয়োজিত ‘এক্সিকিউটিভ ফুটবল সামিট ২০২৬’-এ বক্তব্য দেন ফিফা সদস্যদের সামনে। একদিন পরই আবার মাঠমুখী হন।
সিয়াটলে বেলজিয়াম-মিশর ম্যাচ দেখে একই দিনে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে উপভোগ করেন ইরান ও নিউজিল্যান্ডের রুদ্ধশ্বাস ২-২ ড্র। এরপর কানসাস সিটিতে হাজির হন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ম্যাচে, যেখানে লিওনেল মেসি টুর্নামেন্টের প্রথম হ্যাটট্রিকটি করেন।
মেসির ম্যাচ শেষ হতেই আবার বিমানে চড়ে হিউস্টনের পথে ইনফান্তিনো। সেখানে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রথম ম্যাচ দেখেন তিনি। কাউবয় স্টাইলের স্টেটসন টুপি পরে গ্যালারিতে তার উপস্থিতিও আলোচনায় আসে।
হিউস্টন থেকে মেক্সিকো সিটি, তারপর আবার ভ্যাঙ্কুভার। কানাডা ও কাতারের নাটকীয় ম্যাচ শেষে তিনি খোঁজ নেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনেরও।
ফিফা সভাপতির পরিকল্পনা ছিল প্রতিদিন দুটি করে ম্যাচ দেখা। পুরোপুরি সম্ভব না হলেও প্রথম সপ্তাহেই তিনি পাড়ি দিয়েছেন প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ মাইল পথ। তিন দেশের একাধিক শহরে ছুটে বেড়িয়ে বিশ্বকাপকে কাছ থেকে অনুসরণ করছেন তিনি।
মাঠের লড়াই যেমন বিশ্বকাপের অন্যতম গল্প, তেমনি ভেন্যু থেকে ভেন্যুতে ইনফান্তিনোর এই অবিরাম যাত্রাও হয়ে উঠেছে টুর্নামেন্টের আলোচিত এক উপাখ্যান।