বিশ্বকাপের দ্রুততম খেলোয়াড় কে এই বস

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম রাউন্ডের স্প্রিন্ট ডেটা প্রকাশের পর ফুটবল বিশ্বে নতুন এক নাম আলোচনায়, অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার জর্ডান বস। ফিফার অফিসিয়াল ট্র্যাকিং অনুযায়ী, তিনি এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের দ্রুততম খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গতি ৩৬.৭ কিমি প্রতি ঘণ্টা।

টার্কির বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ২–০ ব্যবধানের জয়ে এই গতির ঝলক দেখান বস। পুরো ম্যাচে রক্ষণাত্মক ভূমিকার মধ্যেও তার গতি এবং বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নজর কাড়ে বিশ্লেষকদের। শুধু ডিফেন্স নয়, আক্রমণ শুরু করার ক্ষেত্রেও তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ ভরসা হয়ে উঠছেন।

এই তালিকায় তার খুব কাছাকাছি আছেন নরওয়ের আর্লিং হাল্যান্ড এবং উজবেকিস্তানের ডিফেন্ডার আব্দুকোদির খুসানভ, দুজনই ৩৬.৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিতে দৌড়েছেন। তবে বড় নাম হিসেবে কিলিয়ান এমবাপ্পে বা সন হিউং মিনদেরও পেছনে ফেলেছেন বস।

২৩ বছর বয়সী এই ফুলব্যাকের উত্থান শুধু গতি দিয়ে নয়, ধারাবাহিক পারফরম্যান্সেও। ডাচ ক্লাব ফেয়েনুর্ডে দারুণ একটি মৌসুম কাটিয়ে তিনি নিজেকে ইউরোপের অন্যতম কার্যকর আক্রমণাত্মক ফুলব্যাকে পরিণত করেছেন। ক্লাবের হয়ে ৯টি অ্যাসিস্ট এবং ৪টি গোল তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

তার শারীরিক পরিবর্তনও আলোচনার অংশ। ছোট বয়সে তুলনামূলকভাবে খর্বকায় থাকা বস হঠাৎ করেই লম্বা ও শক্তিশালী হয়ে ওঠেন, যা অনেকটা গ্যারেথ বেলের ক্যারিয়ার ট্রান্সফরমেশনের সঙ্গে তুলনা টেনে দেয় বিশ্লেষকরা। সেই পরিবর্তনই তার খেলার ধরণ বদলে দেয়,গতি, শক্তি এবং বল নিয়ন্ত্রণে নতুন মাত্রা যোগ হয়।

অস্ট্রেলিয়া দলে সতীর্থরা মনে করেন, তার এই পরিবর্তনই তাকে আলাদা করেছে। শুরুতে প্রযুক্তিগতভাবে ভালো হলেও শারীরিকভাবে পিছিয়ে থাকা বস এখন পুরোপুরি পরিণত এক অ্যাথলেট।

টার্কির বিপক্ষে ম্যাচে তার পারফরম্যান্স ছিল বেশ নিয়ন্ত্রিত। ২৩ পাসের মধ্যে ২১টি সফল, পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্সিভ ব্লক এবং আক্রমণে একাধিক অবদান। প্রতিপক্ষের চাপের মধ্যেও তিনি দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠেন।

ডাচ শিকড় থাকা এই ফুটবলারের গল্পেও আছে বিশেষ আবেগ। তার বাবা ফেয়েনুর্ডের সমর্থক ছিলেন, আর সেই ক্লাবেই এখন খেলছেন জর্ডান বস। ফুটবল ইতিহাস ও ব্যক্তিগত গল্প মিলিয়ে তিনি এখন বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করছেন।

পরবর্তী ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মাঠে নামবেন তিনি, যেখানে তার গতি আবারও বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর নজরেও এখন তিনি। তবে আপাতত বিশ্বকাপে নিজের ছাপ রাখাই তার মূল লক্ষ্য। সূত্র: বিবিসি

AS
আরও পড়ুন