বিশ্বকাপের মাঠে লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি ইরান। যুক্তরাষ্ট্রে আরোপিত বিশেষ ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিধিনিষেধকে ‘অন্যায্য’ ও ‘প্রতিযোগিতার নীতির পরিপন্থী’ আখ্যা দিয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে ফুটবল দলটির ওপরও। নিরাপত্তা ও ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বেইস ক্যাম্প স্থাপন না করে প্রতিবেশী মেক্সিকোতে নিজেদের ঘাঁটি গড়তে বাধ্য হয়েছে ইরান।
ফলে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে এক দেশে, আর ম্যাচ খেলতে যেতে হচ্ছে অন্য দেশে। প্রতিটি ম্যাচের আগে ও পরে দীর্ঘ যাত্রা করতে হওয়ায় পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।
ইরানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দলটিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার দিনই দেশটি ত্যাগ করতে হবে।
এই বাস্তবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের কোচ আমির গালেনোই। তার দাবি, এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ‘সবচেয়ে নিপীড়িত’ অবস্থায় রয়েছে তার দল।
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানায়, এমন বিধিনিষেধ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একই সঙ্গে এটি দলের কৌশলগত ও শারীরিক প্রস্তুতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ফেডারেশনের ভাষ্য অনুযায়ী, কোচিং স্টাফের পরিকল্পনা ছিল প্রতিটি ম্যাচের অন্তত দুই দিন আগে আয়োজক শহরে পৌঁছে প্রস্তুতি নেওয়া এবং ম্যাচের পরদিন বেইস ক্যাম্পে ফেরা। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে সেই অনুরোধ অনুমোদন করা হয়নি।
লস অ্যাঞ্জেলসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্রয়ের পর গালেনোই দাবি করেন, ভ্রমণজনিত এই জটিলতা দলের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলেছে।
এখন ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাতে যাচ্ছে ইরান। তাদের দাবি, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে সব দলের জন্য সমান পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় মাঠের লড়াইয়ের আগেই কিছু দল অসুবিধাজনক অবস্থানে পড়ে যেতে পারে।
গ্রুপ পর্বে ইরানের সামনে এখনো দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বাকি। লস অ্যাঞ্জেলসে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামার পর সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা। তবে মাঠের ফলাফলের পাশাপাশি ভ্রমণ ও লজিস্টিকসের এই বিতর্কও বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠছে।