তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন কোনো কঠোর ট্যাকল করেননি, প্রতিপক্ষকে আঘাতও করেননি। তবু প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তিনি। কারণ, প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় মের্দ মুরদুলের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের মুখ হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন আলমিরন।
এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে নতুন এক ইতিহাসের জন্ম হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে চালু হওয়া নিয়ম অনুযায়ী মুখ ঢেকে কথা বলার কারণে লাল কার্ড দেখা প্রথম ফুটবলার এখন আলমিরন।
ফুটবলে প্রতিপক্ষকে কানে কানে কিছু বলা নতুন ঘটনা নয়। তবে মুখ ঢেকে কথা বললে কী বলা হচ্ছে তা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ সুযোগে বর্ণবাদী, বৈষম্যমূলক বা ঘৃণামূলক মন্তব্য করা হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই নতুন নিয়ম চালু করেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।
বিষয়টি আলোচনায় আসে গত ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের এক ম্যাচে। রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে কথা বলার সময় বেনফিকার জিয়ানলুকা প্রেসতিয়ান্নি নিজের মুখ জার্সি দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। পরে সেই ঘটনায় তদন্ত করে তাকে সমকামবিদ্বেষী আচরণের দায়ে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয় উয়েফা।
ফিফার মতে, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য শাস্তি দেওয়া নয়, বরং এমন আচরণ নিরুৎসাহিত করা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘লুকানোর কিছু না থাকলে মুখ ঢাকারও প্রয়োজন নেই।’
তবে মুখ ঢেকে কথা বললেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল কার্ড দেখানো হবে না। ফুটবলের আইন প্রণয়ন সংস্থা আইএফএবি জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন রেফারি। কোনো আচরণ সন্দেহজনক, উসকানিমূলক বা খেলার স্বার্থের পরিপন্থী মনে হলে সরাসরি বহিষ্কারের ক্ষমতা থাকবে তার হাতে।
তুরস্ক-প্যারাগুয়ে ম্যাচে সেই ক্ষমতাই প্রয়োগ করেন এল সালভাদরের রেফারি ইভান বারটন। তার সিদ্ধান্তেই নতুন নিয়মে প্রথম লাল কার্ডের নজির গড়েন আলমিরন।