'কুরাসাওতে আমার ভাষ্কর্য বানানো উচিৎ'

বিশ্বকাপের এক অবিস্মরণীয় রাত। একদিকে কেপ ভার্দের ভোজিনিয়ার দারুণ পারফরম্যান্স, অন্যদিকে পুরো আলো কেড়ে নিলেন কুরাসাওর গোলরক্ষক ইলোই রুম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইতিহাস লেখা হলো তাঁর হাতেই।

শক্তিশালী ইকুয়েডর-এর বিপক্ষে গ্রুপ ‘ই’-এর ম্যাচে ০–০ ড্র করে মাঠ ছাড়ে কুরাসাও। এই ড্র-ই তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম পয়েন্ট। আর সেই অর্জনের মূল স্থপতি, ইলোই রুম।

ম্যাচজুড়ে অবিশ্বাস্যভাবে ১৫টি সেভ করেন তিনি, যা ৯০ মিনিটের ম্যাচে কোনো গোলরক্ষকের সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইকুয়েডরের একের পর এক আক্রমণ যেন থেমে যাচ্ছিল তার হাত, পা আর রিফ্লেক্সের দেয়ালে।

ম্যাচ শেষে ক্লান্ত অথচ উচ্ছ্বসিত রুম বলেন, 'এটা আমাদের জন্য সবকিছু। এটা যেন জয়ের অনুভূতি। বিশ্বকাপে আমাদের প্রথম পয়েন্ট, এর মূল্য ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।'

তিনি আরও যোগ করেন, 'আমরা কোথা থেকে উঠে এসেছি আর আজ কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, সেটা ভাবলে অবিশ্বাস্য লাগে। আমরা দেখিয়েছি আমাদের হৃদয় কত বড়। অনুভূতিটা অসাধারণ।'

নিজের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স নিয়ে ৩৭ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক বলেন,'আমি বুঝতে পারছিলাম অনেক সেভ করতে হচ্ছে। জানতাম এটি অনেক পুরোনো একটি রেকর্ড। তাই আমি সত্যিই গর্বিত।'

নিজদের গোলের সুযোগ নিয়ে তিনি বলেন, 'প্রথম সেভটাই আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল। তখনই বুঝেছিলাম ম্যাচটা খুব কঠিন হতে যাচ্ছে। আমাদেরও গোল করার সুযোগ ছিল। সেগুলো কাজে লাগাতে পারলে আরও ভালো হতো। তারপরও আমাদের কাছে এটি জয়ের মতোই।'

সবশেষে হাসতে হাসতে তিনি যোগ করেন,'ভবিষ্যতের জন্য এই ম্যাচ বিশেষ স্মৃতি বহন করবে। ৪০ বছর পরও আমি এই ম্যাচের কথা মনে রাখব। এটা অবিশ্বাস্য একটি স্মৃতি হয়ে থাকবে। আর এখন মনে হয় কুরাসাওতে আমার একটি ভাষ্কর্য হওয়া উচিত।'