বিশ্বকাপের সবুজ গালিচার মঞ্চটাই যেন রেকর্ড ভাঙ্গা-গড়ার জায়গা। আর তাই হয়তো এখানে সেরারাই ছাড়িয়ে যান সেরাদের। আর সেই ধারাবাহিকতায় নতুন এক ইতিহাস লিখলেন ফরাসি ফুটবলের রাজপুত্র কিলিয়ান এমবাপ্পে।
নিজের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচে জাদুকরী পারফরম্যান্সে তিনি ফ্রান্সকে শুধু বিজয় উপহার দেননি, বরং বিশ্বমঞ্চের পরিসংখ্যানের খাতায় বদলে দিয়েছেন পুরোনো ইতিহাস। এই স্মরণীয় মঞ্চে এমবাপ্পের পা থেকে রচিত হয়েছে ফুটবলের নতুন মহাকাব্য।
ফুটবলের এই বিশ্বমঞ্চে এমবাপ্পে এখন ১৬ গোলের মালিক, যা তাকে বসিয়েছে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের পাশে। তার সামনে এখন কেবল লিওনেল মেসির ১৮ গোলের চূড়া। গোল করার এই শিল্পে তিনি গড়েছেন আরও কিছু বিরল কীর্তি। খবর সংযোগের পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো।
টানা জোড়া গোলের জাদু: বিশ্বকাপে টানা তিনটি বা তার বেশি ম্যাচে দুই বা ততোধিক গোল করার এক বিরল মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। ফুটবল ইতিহাসে তিনি মাত্র চতুর্থ খেলোয়াড়, যিনি এই কীর্তি গড়লেন। এর আগে ১৯৩০ সালে গুইলিয়ের্মো স্তাবিলে, ১৯৫৪ সালে সান্দোর ককিস এবং সাম্প্রতিক সময়ে লিওনেল মেসি এই অনন্য অর্জনের সাক্ষী হয়েছিলেন।
একাধিক গোলের সমাহার: বিশ্বকাপে এটি এমবাপ্পের ষষ্ঠ ম্যাচ, যেখানে তিনি একাধিক গোলের দেখা পেয়েছেন। এর মাঝে পাঁচটি ডাবল এবং একটি হ্যাটট্রিক রয়েছে।
বক্সের বাইরে থেকে নিশানা: একসময় তার বেশিরভাগ গোলই ডি-বক্সের ভেতর থেকে এলেও, বিশ্বকাপে নিজের শেষ তিনটি গোলের দুটিই তিনি করেছেন বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দূরপাল্লার নান্দনিক শটে।
জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল এমবাপ্পের শততম ম্যাচ। মাত্র ২৭ বছর ১৮৪ দিন বয়সে এই মাইলফলক ছুঁয়ে ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে শততম ম্যাচ খেলার অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন তিনি। অধিনায়কের এই জাদুকরী রাতে আলো ছড়িয়েছেন সতীর্থরাও।
মাঝমাঠে মাইকেল ওলিসে একাই দুইটি অ্যাসিস্ট বা সহায়তা করে নজর কেড়েছেন, যার সুবাদে চলতি বিশ্বকাপে সর্বাধিক সহায়তাকারীদের তালিকায় তিনি এখন শীর্ষে।
এমবাপ্পের ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি দলগতভাবেও ফ্রান্স রচনা করেছে নতুন ইতিহাস। বিশ্বকাপে এশীয় দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি তারা আরও প্রলম্বিত করেছে, যা এখন টানা ছয় ম্যাচে গিয়ে ঠেকেছে। এছাড়া, নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ ধারাবাহিকতা দেখিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পা রেখেছে ফরাসিরা। শুধু তাই নয়, টানা চারটি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে ফ্রান্স প্রমাণ করেছে বিশ্বমঞ্চে তাদের স্থায়ী শক্তিমত্তা ও রাজকীয় আধিপত্যের কথা।