বিশ্ব ফুটবালের বর্তমান সময়ের দুই সেরা স্ট্রাইকারের একজন কিলিয়ান এমবাপ্পে, অন্যজন আর্লিং হাল্যান্ড। শুক্রবার (২৬ জুন) বোস্টন স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘আই’-এর শীর্ষস্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও নরওয়ে। ফলে আলোচনার কেন্দ্রে এই দুই গোলমেশিন।
বিশ্বকাপে দুই দলই প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ইতোমধ্যে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। এমবাপ্পে ও হাল্যান্ড দুজনই দুই ম্যাচে চারটি করে গোল করেছেন। তবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে পাঁচ গোল নিয়ে এগিয়ে আছেন লিওনেল মেসি।
দেশের জার্সিতে দুজনের প্রভাব কতটা?
ক্লাব ফুটবলে দুজনই অপরিহার্য হলেও জাতীয় দলে তাদের গুরুত্ব আরও বেশি।
দুই হাজার বাইশ সালের আগস্টের পর থেকে এমবাপ্পেকে নিয়ে খেললে ফ্রান্সের জয়ের হার প্রায় সত্তর শতাংশ। আর তাকে ছাড়া সেই হার নেমে আসে অর্ধেকে। শুধু তাই নয়, এমবাপ্পে থাকলে ম্যাচপ্রতি ফ্রান্সের গোলের গড়ও বেড়ে যায়।
অন্যদিকে নরওয়ের ক্ষেত্রে হাল্যান্ডের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট। তাকে নিয়ে খেললে নরওয়ের জয়ের হার প্রায় পঁয়ষট্টি শতাংশ, কিন্তু তাকে ছাড়া তা মাত্র তেত্রিশ শতাংশের কিছু বেশি।
বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত দুই তারকা
এবারের বিশ্বকাপেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন দুজনই।
ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ষোলো গোল করেছেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসির চেয়ে তিনি মাত্র দুই গোল পিছিয়ে। বয়সের ব্যবধান বিবেচনায় ভবিষ্যতে এই রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল।
অন্যদিকে এটি হাল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপ। কিন্তু অভিষেকেই ইতিহাস গড়েছেন তিনি। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম দুই ম্যাচেই জোড়া গোল করে গত পঞ্চাশ বছরে মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকার। এর আগে দুই হাজার আঠারো সালে একই কীর্তি গড়েছিলেন হ্যারি কেইন।
জাতীয় দলের হয়ে হাল্যান্ডের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও অবিশ্বাস্য। টানা বারোটি প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করেছেন তিনি। শেষ ছয় ম্যাচেই করেছেন ষোলো গোল।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমবাপ্পের গোল সংখ্যা একশ ম্যাচে ষাট। অন্যদিকে মাত্র বায়ান্নো ম্যাচেই ঊনষাট গোল করেছেন হাল্যান্ড। অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গোলের হিসাবে এগিয়ে নরওয়ের এই ফরোয়ার্ড।
খেলার ধরনে বড় পার্থক্য
খেলার ধরনেও রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য।
এমবাপ্পে বল নিয়ে বেশি দৌড়ান, ড্রিবল করেন, সুযোগ তৈরি করেন এবং আক্রমণে নানা জায়গায় ঘুরে বেড়ান। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচে তিনি চৌদ্দটি ড্রিবলের চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে হাল্যান্ড মূলত পেনাল্টি বক্সের ভেতরে থাকতেই বেশি স্বচ্ছন্দ। একই সময়ে তার ড্রিবলের চেষ্টা ছিল মাত্র একটি। তবে সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতায় এগিয়ে তিনি। গত চার মৌসুমের লিগ পরিসংখ্যানে তার শট থেকে গোল করার হার এমবাপ্পের চেয়ে বেশি।
কার ওপর নির্ভরশীল দল?
দুই হাজার বাইশ সালের আগস্ট থেকে ফ্রান্সের মোট গোলের চুয়াল্লিশ শতাংশে সরাসরি অবদান রেখেছেন এমবাপ্পে। তার অবদান তেত্রিশ গোল ও সতেরো অ্যাসিস্ট।
একই সময়ে নরওয়ের গোলের প্রায় চুয়াল্লিশ শতাংশেই অবদান হাল্যান্ডের। তিনি করেছেন ঊনচল্লিশ গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট।
ফ্রান্স এবারের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার। অন্যদিকে নরওয়ের স্বপ্ন অনেকটাই নির্ভর করছে হাল্যান্ডের দুর্দান্ত ফর্মের ওপর। তাই শুক্রবারের লড়াইটি শুধু দুই দলের নয়, বিশ্ব ফুটবালের দুই সেরা গোলদাতারও এক মহারণ হতে যাচ্ছে। সূত্র: বিবিসি