গ্রুপের তৃতীয় দলের নকআউট পর্বে যাওয়ার সমীকরণ

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাট চালুর ফলে বদলে গেছে নকআউট পর্বে ওঠার সমীকরণও। এবার শুধু প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল নয়, ১২টি গ্রুপের মধ্যে সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলও জায়গা পাবে শেষ বত্রিশে। ফলে গ্রুপে তৃতীয় হয়েও নকআউটে ওঠার সুযোগ থাকছে অনেক দলের।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১২টি গ্রুপ থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় হওয়া ২৪টি দল সরাসরি শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করবে। এরপর তৃতীয় হওয়া ১২ দলের মধ্যে সেরা আটটি দলও নকআউটে খেলবে। বাকি চারটি দল বিদায় নেবে গ্রুপ পর্ব থেকেই।

বর্তমান অবস্থায় সেরা তৃতীয় স্থানধারীদের তালিকায় রয়েছে সুইডেন, ইকুয়েডর, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, প্যারাগুয়ে, ক্রোয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, আলজেরিয়া ও স্কটল্যান্ড।

চার পয়েন্ট নিয়ে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে সুইডেন। তাদের গোল ব্যবধান শূন্য হলেও সাতটি গোল করায় তারা অন্য দলগুলোর চেয়ে এগিয়ে। একই পয়েন্ট ও সমান গোল ব্যবধান নিয়ে ইকুয়েডর দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও তারা করেছে মাত্র দুটি গোল। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনারও চার পয়েন্ট, তবে গোল ব্যবধান ঋণাত্মক এক। প্যারাগুয়ের চার পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধান ঋণাত্মক দুই হওয়ায় তারা আরও নিচে রয়েছে।

তিন পয়েন্ট পাওয়া দলগুলোর মধ্যে ক্রোয়েশিয়া আপাতত সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে। এরপর রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, আলজেরিয়া ও স্কটল্যান্ড। তবে বাকি গ্রুপগুলোর খেলা শেষ না হওয়ায় এই তালিকায় পরিবর্তনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

সমতা হলে কীভাবে হবে সিদ্ধান্ত?

যেহেতু তৃতীয় স্থানধারী দলগুলো একে অপরের বিপক্ষে খেলেনি, তাই তাদের ক্ষেত্রে মুখোমুখি লড়াইয়ের ফল বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে প্রথমে দেখা হবে গোল ব্যবধান। সেটিও সমান হলে বিবেচনায় আসবে কে বেশি গোল করেছে। এরপরও সমতা থাকলে ফেয়ার প্লে রেকর্ড দেখা হবে। সবশেষেও সমাধান না হলে বিবেচনায় নেওয়া হবে ফিফা র‌্যাঙ্কিং।

এ কারণেই গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলোতে শুধু জয়ই নয়, বড় ব্যবধানে জয় কিংবা অন্তত গোল ব্যবধান ভালো রাখাও অনেক দলের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন এই ফরম্যাটে নকআউটে ওঠার লড়াই তাই শেষ ম্যাচ পর্যন্ত জমে থাকারই আভাস দিচ্ছে।