বিশ্বকাপে অভিষেকেই ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠা ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে নাম লিখিয়েছে। আর সেই রূপকথার পুরস্কার হিসেবে শেষ বত্রিশে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
গ্রুপের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করার পর স্পেন-উরুগুয়ে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত মোবাইল ফোনে দেখছিলেন কেপ ভার্দের ফুটবলাররা। স্পেনের জয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে নকআউট নিশ্চিত হয় তাদের। মাঠজুড়ে শুরু হয় আবেগঘন উদযাপন, আনন্দে কেঁদে ফেলেন খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেয় কেপ ভার্দে। সেই ম্যাচে ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার অসাধারণ সাতটি সেভ দলকে এক পয়েন্ট এনে দেয়। এরপর দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের সঙ্গেও ২-২ গোলে ড্র করে চমকে দেয় আফ্রিকার দলটি।
কেপ ভার্দের এই সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি তাদের প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে গড়া দল। ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ১৪ জনই জন্মেছেন দেশের বাইরে। তাদের মধ্যে ছয়জনের জন্ম নেদারল্যান্ডসের রটারডামে। আবার পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস ও অন্যান্য দেশে বেড়ে ওঠা খেলোয়াড়দের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ক্যামেরুনকে পেছনে ফেলে জায়গা করে নেওয়া কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা ২০২০ সাল থেকে দায়িত্বে আছেন। তার অধীনে দলটি গড়ে উঠেছে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, কারিগরি দক্ষ মিডফিল্ড এবং গতিময় আক্রমণভাগের সমন্বয়ে। ২০২৩ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসেও তারা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল।
রক্ষণভাগের খেলোয়াড় সিডনি লোপেস কাবরাল বলেছেন, তারা সবসময় দলগত ছন্দে খেলেন এবং মাঠে যা করেছেন, তা নতুন কিছু নয়। এটি তাদের স্বাভাবিক খেলার ধরন এবং দলের পরিচয়।
কোচ বুবিস্তার বিশ্বাস, ছোট দেশ হলেও তাদের সামর্থ্য বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো। তার ভাষায়, ফুটবল সবার জন্য, আর কেপ ভার্দের এই সাফল্য বিশ্বের অন্যান্য ছোট দেশগুলোকেও অনুপ্রাণিত করবে।
এখন তাদের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। শেষ বত্রিশে মায়ামিতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে। তবে ভয় নয়, স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামতে চায় আফ্রিকার নবাগত দলটি।
মিডফিল্ডার ডেরয় দুয়ার্তে বলেছেন, সবকিছুই যেন স্বপ্নের মতো লাগছে। এখন উদযাপনের সময়, এরপর শুরু হবে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে প্রস্তুতি। কঠিন ম্যাচ হলেও তাদের বিশ্বাস, ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, কেপ ভার্দের এই অবিশ্বাস্য যাত্রা প্রমাণ করেছে বিশ্বকাপে ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাট ছোট দেশগুলোর জন্যও বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ তৈরি করেছে। সূত্র: বিবিসি