সালাহ'র চোটে শঙ্কায় মিশর শিবির

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে উঠেছে মিশর। এরই মধ্যে বড় শঙ্কায় পড়েছে আফ্রিকার এই দলটি । ইরানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উরুর পেছনের অংশে ব্যথা অনুভব করায় দ্বিতীয়ার্ধেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন মোহাম্মদ সালাহ। ফলে আগামী সপ্তাহে রাউন্ড অব ৩২-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় অনিশ্চয়তা।

শনিবার (২৭ জুন) ইরানের বিপক্ষে এক-এক গোলে ড্র করা ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে সালাহর পরিবর্তে মাঠে নামেন মোস্তফা জিকো। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৬৮তম গোল করেন তিনি। পাশাপাশি টুর্নামেন্টে আরও দুটি গোলে সহায়তা করে মিশরের ঐতিহাসিক নকআউট পর্বে ওঠার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ম্যাচ শেষে মিশর ফুটবল ফেডারেশন জানায়, প্রধান কোচ হোসাম হাসান নিশ্চিত করেছেন যে ইরানের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে উরুর পেছনের অংশে ব্যথা অনুভব করেন সালাহ। সেই কারণেই দ্বিতীয়ার্ধে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়।

একই সঙ্গে দলের বাঁ প্রান্তের ডিফেন্ডার আহমেদ ফতোহও উরুর একই ধরনের সমস্যায় ভুগছেন। অন্যদিকে ডিফেন্ডার মোহাম্মদ আবদেলমোনেম গোড়ালিতে আঘাত পেয়েছেন।

কোচ হোসাম হাসান জানান, সালাহ, ফতোহ ও আবদেলমোনেমকে দলের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আবুল ইলার তত্ত্বাবধানে স্ক্যান ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা করানো হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই তাদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে জাতীয় দলের দায়িত্বের পাশাপাশি সালাহর ক্লাব ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা চলছে। আগামী ১ জুলাই নয় বছরের অধ্যায়ের ইতি টেনে লিভারপুল ছাড়বেন তিনি। তুরস্কের ক্লাব ফেনারবাখের সঙ্গে তাঁর নাম জড়ালেও সালাহর প্রতিনিধি রামি আব্বাস জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, সালাহ ভালো আছেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাইরে কারও সঙ্গে আলোচনা করতে চান না। তিনি আরও বলেন, এসব বিষয়ে তাঁরা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

এর আগে তুর্কি ব্যবসায়ী তোরুনওগুল্লারি দাবি করেছিলেন, সালাহ ফেনারবাখে যোগ দিতে আগ্রহী এবং তাঁর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তবে সেই দাবি কার্যত নাকচ করে দিয়েছেন সালাহর প্রতিনিধি।

২০১৭ সালে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন সালাহ। এই সময়ে তিনি দুটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, একটি এফএ কাপ এবং দুটি লিগ কাপ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। সূত্র: দ্য মিরর