বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপের শেষ ম্যাচ ঘিরে আগে থেকেই আলোচনা ছিল তুঙ্গে। সমীকরণ ছিল এমন, আলজেরিয়ার বিপক্ষে ড্র হলেই অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া, দুই দলেরই নকআউট পর্বে যাওয়ার পথ খুলে যেত। তাই ম্যাচ শুরুর আগেই অনেকের শঙ্কা ছিল, হয়তো দেখা যেতে পারে কোনো ‘সমঝোতার ড্র’। কিন্তু মাঠে যা ঘটল, তা যেন সব জল্পনা-কল্পনাকেই নাটকীয়ভাবে উড়িয়ে দিল।
রুদ্ধশ্বাস এই ম্যাচটি শেষ হয়েছে অবিশ্বাস্য ৩-৩ সমতায়। আর এই ফলের মাধ্যমে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে অস্ট্রিয়া। অন্যদিকে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউট পর্বে উঠে গেছে আলজেরিয়াও। তবে এই ফলেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে ইরানের।
ম্যাচ শেষে ‘পাতানো ম্যাচ’ বিতর্কের জবাব দিয়েছেন অস্ট্রিয়ার প্রধান কোচ রালফ রাংনিক। তিনি বলেন, ‘যখন একটি ম্যাচ ৩-৩ গোলে শেষ হয়, তখন কেউ কোনোভাবেই বলতে পারে না যে এটি আগে থেকে ঠিক করা ছিল। বিশেষ করে শেষ ৯০ সেকেন্ডে যা ঘটেছে, তার পর তো এমন ধারণার কোনো ভিত্তিই থাকে না।’
৬৭ বছর বয়সী এই কোচের কথার যথেষ্ট কারণও ছিল। কারণ ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিটে যা ঘটেছে, তা যেন ফুটবল নাটকের চূড়ান্ত রূপ। ৯৩তম মিনিটে অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ গোল করে আলজেরিয়াকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। তখন মনে হচ্ছিল জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে উত্তর আফ্রিকার দলটি। কিন্তু শেষ আক্রমণে বদলি খেলোয়াড় সাশা কালাইজিচ গোল করে অস্ট্রিয়াকে সমতায় ফেরান এবং দুই দলকেই নকআউটের টিকিট এনে দেন।
এই অবিশ্বাস্য সমাপ্তি রাংনিককেও বিস্মিত করেছে। তিনি বলেন, ‘খেলার আর মাত্র তিন মিনিট বাকি থাকতে যদি কেউ আমাকে বলত এমন কিছু ঘটবে, আমি তাকে পাগল বলতাম। প্রায় ৪০ বছর ধরে কোচিং করছি, কিন্তু এত নাটকীয় এবং এত অপ্রত্যাশিত কোনো ম্যাচ আমার মনে পড়ে না।’
রাংনিক আরও বলেন, ‘সবাই যেখানে ০-০ কিংবা ১-১ গোলের নিস্তেজ ড্রয়ের অপেক্ষায় ছিল, সেখানে ম্যাচ শেষ হলো ৩-৩ ব্যবধানে। এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। ড্রেসিংরুমে সবাই আনন্দে পাগলপ্রায়। আলফ্রেড হিচককও যদি এমন কোনো গল্প লিখতেন, আমি সম্ভবত বলতাম তিনি পুরোপুরি উন্মাদ হয়ে গেছেন।’
যে ম্যাচ নিয়ে আগে থেকেই সন্দেহ, সমীকরণ আর বিতর্কের কথা হচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়ে উঠল বিশ্বকাপের অন্যতম নাটকীয় লড়াই। আর সেই নাটকীয়তার কেন্দ্রেই জায়গা করে নিল অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া।