জাপান বধের কৌশল জানালেন আনচেলত্তি

প্রথমার্ধে যেন এক নিশ্ছিদ্র প্রাচীর। জাপানি সামুরাইদের সুসংগঠিত রক্ষণ আর কড়া মার্কিংয়ের বেড়াজালে আটকে পড়েছিল লাতিন সাম্বার চিরচেনা ছন্দ। মাঝমাঠ কিংবা উইং- কোথাও মিলছিল না আলোর দেখা। কিন্তু বিরতির পর মরুর বুকে ফিরল সেই চেনা ছন্দ, ব্রাজিলের আক্রমণভাগে যেন খেলে গেল এক পশলা দমকা হাওয়া। শেষ পর্যন্ত জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করলো সেলেসাওরা। ম্যাচ শেষে ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি নিজেই উন্মোচন করলেন তার সেই ‘জাপান বধের’ মায়াবী কৌশল।

আনচেলত্তি জানান, প্রথমার্ধে জাপানের জমাট রক্ষণ ভেদ করতে না পেরে বিরতির সময় তিনি তার রণকৌশল বদলে ফেলেন। শিষ্যদের শান্ত থাকার মন্ত্র দিয়ে তিনি নির্দেশ দেন- আক্রমণ করতে হবে উইং ধরে, আর বক্সে বাড়াতে হবে ক্রসের বন্যা।

কৌশলের এই পালাবদলই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধে ডাগআউট থেকে আনচেলত্তি মাঠে নামান তরুণ তুর্কী এনদ্রিককে, যা আক্রমণে তোলে গতির ঝড়। এরপর গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গতিময় দৌড় আর নিখুঁত মুভমেন্ট জাপানের দুর্গে ফাটল ধরায়; আর সেই ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে জাল খুঁজে নেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়ররা।

ম্যাচ শেষে তৃপ্তির হাসিতে আনচেলত্তি বলেন- ভুল হবেই, কিন্তু সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতাই আসল। আমরা অতিরিক্ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করিনি, জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে লড়েছি।

জাপানের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করতেও ভোলেননি ব্রাজিলের এই ইতালিয়ান কোচ। তবে চড়াই-উতরাই পেরিয়ে চেনা ছন্দে ঘুরে দাঁড়ানোর এই গল্পই ফুটবলপ্রেমীদের মনে অনেকদিন দাগ কেটে থাকবে। সাম্বার ছন্দ আর গুরুর চাণক্য নীতি- এই দুইয়ের যুগলবন্দীতেই হেক্সার স্বপ্ন ধরে রাখলো ব্রাজিল।