আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচে ভিএআর ব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের জবাবে অবশেষে মুখ খুলেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি বলেছেন, আলোচিত ম্যাচের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত খুঁটিয়ে পর্যালোচনার পর কোনো দলকে ইচ্ছাকৃত সুবিধা দেওয়া হয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ইনফান্তিনো জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ম্যাচটির ভিডিও দশবারেরও বেশি দেখেছেন। বিভিন্ন ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল, ভিএআর কক্ষের অডিও যোগাযোগ এবং রিপ্লে বিশ্লেষণ করে পুরো ঘটনাটি পর্যালোচনা করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, উদ্দেশ্য ছিল কোনো পক্ষকে রক্ষা করা নয়, বরং বিতর্কের সত্যতা যাচাই করা।
ফিফা সভাপতি বলেন, পর্যালোচনায় ভিএআর দলের অসৎ উদ্দেশ্য বা পক্ষপাতিত্বের কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে, আর সেটি ফুটবলেরই স্বাভাবিক অংশ।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ভিএআর প্রযুক্তির কাজ মাঠের স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল সংশোধন করা, প্রতিটি বিতর্ক দূর করা নয়। অনেক পরিস্থিতিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রেফারির বিচার-বিবেচনার ওপর নির্ভর করে এবং সেসব ক্ষেত্রে ভিন্নমত থাকাটা অস্বাভাবিক নয়।
মিশরের সমর্থকদের হতাশা এবং আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে ইনফান্তিনো বলেন, আবেগই ফুটবলকে বিশেষ করে তোলে। কিন্তু ফিফার দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট দেশের সমর্থকদের সন্তুষ্ট করা নয়; বরং সবার জন্য খেলার আইন সমানভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
রেফারিংয়ের মানোন্নয়নেও জোর দেন ফিফা সভাপতি। তিনি বলেন, কোনো রেফারিই পর্যালোচনার ঊর্ধ্বে নন। প্রতিটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করা হবে এবং সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ফুটবল আরও স্বচ্ছ ও উন্নত হবে।
বিবৃতির শেষভাগে ফুটবলপ্রেমীদের উদ্দেশে ইনফান্তিনো বলেন, আবেগ ও বিতর্ক খেলাটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে ফুটবলের সততা রক্ষা করতে হলে গুজব বা অনুমানের বদলে স্বচ্ছতা, ধারাবাহিকতা এবং জবাবদিহিতার ওপরই আস্থা রাখতে হবে।