আর্জেন্টিনা–মিশর বিশ্বকাপ ম্যাচে রেফারিং ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে ফিফা। সংস্থাটির প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনা বলেছেন, মাঠের রেফারি কোনো ফাউল দেখতে না পেলেও ভিডিও রিপ্লেতে সেটি স্পষ্ট হলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতেই পারে। তাঁর ভাষায়, ‘ফাউল মানে ফাউল’। এ ক্ষেত্রে ঘটনাটি গোলপোস্ট থেকে কত দূরে ঘটেছে বা গোলের কতক্ষণ আগে হয়েছে, সেটি বিবেচ্য নয়।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্ব শেষে ফিফার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে রেফারিং নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্নের জবাব দেন ইতালিয়ান কিংবদন্তি এই রেফারি। বর্তমানে ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৬৬ বছর বয়সী কোলিনা বলেন, আগের আসরের তুলনায় এবার ম্যাচের সংখ্যা অনেক বেশি হলেও সামগ্রিকভাবে রেফারিংয়ের মান নিয়ে তারা সন্তুষ্ট।
তাঁর মতে, অল্প সময়ের ব্যবধানে অনেক বেশি ম্যাচ পরিচালনা করতে হওয়ায় কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে প্রতিটি ম্যাচের পরই রেফারিরা নিজেদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করেন এবং পরবর্তী ম্যাচে আরও উন্নতির লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামেন।
রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতারও সমালোচনা করেন কোলিনা। তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা সব সময়ই গ্রহণযোগ্য। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগ শুধু রেফারিদের নয়, তাঁদের পরিবারের জন্যও হুমকি তৈরি করতে পারে।
ফিফার রেফারিং বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করে বলেও জোর দিয়ে জানান তিনি। কোলিনার ভাষায়, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাবেই ম্যাচ পরিচালিত হয় না। এমনকি ফিফা সভাপতিও রেফারিদের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেন না। মাঠের কর্মকর্তারা ফুটবলের আইন এবং নিজেদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেন।
আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের বিতর্কিত ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যায় কোলিনা বলেন, প্রতিটি গোলের আগে পুরো আক্রমণভাগের বিল্ডআপ বা অ্যাটাকিং পজিশন ফেজ (এপিপি) ভিএআর পর্যালোচনা করে। গোলের আগে কোনো ফাউল হয়ে থাকলে এবং সেটি আক্রমণের ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেললে ভিএআর মাঠের রেফারিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেয়।
তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, মিশরের মারওয়ান আত্তিয়ার একটি চ্যালেঞ্জে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ে স্পষ্ট আঘাত লাগে। মাঠের রেফারি ঘটনাটি দেখতে না পেলেও ভিডিও রিপ্লেতে সেটি পরিষ্কার ধরা পড়ে। তাই ওই ঘটনায় ভিএআরের হস্তক্ষেপকে সঠিক বলেই মনে করছে ফিফা।
ম্যাচের শেষ দিকে আরেকটি বিতর্কিত মুহূর্ত নিয়েও ব্যাখ্যা দেন কোলিনা। তাঁর মতে, কোনো ডিফেন্ডার আগে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরে প্রতিপক্ষের সঙ্গে স্বাভাবিক শারীরিক সংঘর্ষে জড়ালে সেটিকে সব সময় ফাউল হিসেবে ধরা হয় না। আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচে শেষ দিকের ঘটনাটিকেও রেফারি ও ভিএআর একইভাবে স্বাভাবিক শারীরিক লড়াই হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
তবে সব সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাই একমত হবেন, এমন প্রত্যাশা করেন না কোলিনা। তাঁর মতে, ফুটবলে কিছু সিদ্ধান্ত সব সময়ই ব্যাখ্যা ও মতপার্থক্যের সুযোগ রাখে। এরপরও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে একই মানদণ্ডে নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় ফিফা সন্তুষ্ট।