ম্যারাডোনার রেকর্ড ভেঙে মেসির মুকুটে নতুন পালক

কানসাস সিটির সবুজ মাঠে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাসিস্টের এক জাদুকরি ছোঁয়ায় নতুন ইতিহাস লিখলেন লিওনেল মেসি। এতে বিশ্ব ফুটবলের রাজপুত্রের মুকুটে যুক্ত হলো নতুন পালক।

কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে আলবিসেলেস্তেদের সেমিফাইনালের টিকিট কাটার রাতে, ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বকালের শীর্ষ অ্যাসিস্টের একক মালিক বনে গেলেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি।

ম্যাচের নবম মিনিটে মেসির বুট থেকে নেওয়া কর্নারের সেই মাপা শটটি যেন ছিল নিখুঁত এক তুলির আঁচড়। সুইস ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকাঞ্জিকে ফাঁকি দিয়ে সেই বল খুঁজে নেয় অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে, যা রূপ নেয় দুর্দান্ত এক গোলে। চলমান বিশ্বকাপে এটি মেসির দ্বিতীয় এবং বিশ্বমঞ্চে সব মিলিয়ে ১০ম অ্যাসিস্ট। এর মাধ্যমে তিনি ভেঙে দিলেন ম্যারাডোনার পূর্ববর্তী রেকর্ড।

এক নজরে রেকর্ড বুকের পাতায় লিওনেল মেসি

নকআউট পর্বের রাজা: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মেসির মোট গোল অবদান (গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে) এখন ১৫টি। গত ৬০ বছরের ইতিহাসে যেকোনো ফুটবলারের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ। তিনি পেছনে ফেলেছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে (১৪)।

অনন্য ছয় আসর: ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে অন্তত একটি করে অ্যাসিস্ট করার অতিমানবীয় রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

বিশ্বরেকর্ডের চূড়ায়: ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ফুটবল ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪১০টি অ্যাসিস্ট এখন মেসির ঝুলিতে। যার মধ্যে আর্জেন্টিনার আকাশি-নীল জার্সিতেই গোল বানিয়েছেন ৬২টি।

বিশ্বকাপের গোলদাতাদের তালিকাতেও সবার ওপরে চড়ে বসেছেন মেসি। এই আসরে নিজের ৮ম গোলসহ বিশ্বমঞ্চে মোট ২১টি গোল নিয়ে তিনি এখন বিশ্বকাপের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই ছিল না, তা রূপ নিয়েছে লিওনেল মেসির অমরত্বের আরও এক নতুন অধ্যায়ে।