ইংল্যান্ড ম্যাচ ঘিরে শান্তির বার্তা দিলেন আর্জেন্টাইন যুদ্ধপ্রবীণরা

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মহারণের আগে এসেছে ভিন্ন এক বার্তা। যুদ্ধের স্মৃতি সামনে এনে উত্তেজনা না ছড়িয়ে, সবাইকে শুধু ফুটবলে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আর্জেন্টিনার যুদ্ধপ্রবীণদের একটি সংগঠন।

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালকে ঘিরে রাজনৈতিক বা যুদ্ধের প্রসঙ্গ না টানার আহ্বান জানিয়েছে আর্জেন্টিনার এপ্রিল ২ ওয়ার ভেটেরান্স ফেডারেশন। সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, এই ম্যাচ কোনো ‘সশস্ত্র প্রতিশোধ’ বা ‘ইতিহাসের ক্ষতিপূরণ’ নয়। তাই মালভিনাস (ফকল্যান্ড) ইস্যু সামনে এনে বিদ্বেষ বা বিদেশবিদ্বেষ ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

১৯৮২ সালে দক্ষিণ আটলান্টিকের দ্বীপপুঞ্জ, যা ব্রিটেনে ফকল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত ,নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে স্বল্প সময়ের যুদ্ধ হয়েছিল। সেই সংঘাতে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন।

যুদ্ধপ্রবীণদের সংগঠনটি বলেছে, দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্বের দাবি আন্তর্জাতিক কূটনীতি, ঐতিহাসিক সত্য এবং জাতীয় সংবিধানে থাকা শান্তিপূর্ণ দাবির মাধ্যমেই এগিয়ে নেওয়া উচিত। ফুটবল মাঠের আবেগ আর জাতীয় ইস্যুকে আলাদা রাখার ওপরও জোর দিয়েছে তারা। তাদের ভাষায়, ‘বল মাঠে গড়াবে, দেশের প্রতি গর্ব থাকবে, কিন্তু স্মৃতিও অটুট থাকবে।’

বর্তমানে যুক্তরাজ্য দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং সেখানে সামরিক উপস্থিতিও বজায় রেখেছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে কূটনৈতিকভাবে তাদের দাবি অব্যাহত রেখেছে।

বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থক ও খেলোয়াড় মালভিনাস, ডিয়েগো ম্যারাডোনা এবং লিওনেল মেসিকে নিয়ে একটি গান গেয়েছেন। তবে সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই ম্যাচে ফুটবল ছাড়া অন্য কোনো বিষয় গুরুত্ব পাবে না।

ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডও একই সুরে বলেছেন, ‘এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ। দুই গর্বিত জাতি মুখোমুখি হচ্ছে, মাঠেই ফুটবল সব কথা বলবে।’

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশ্বের অন্যতম আলোচিত। বিশেষ করে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত 'হ্যান্ড অব গড' গোল আজও এই লড়াইকে বিশেষ মাত্রা এনে দেয়।