প্রিয় শিষ্য নাকি নিজের দেশ, কার পক্ষে গার্দিওলা

ম্যানচেস্টার সিটির কোচের পদ ছাড়ার পর বর্তমানে কোনো ক্লাবের ডাগআউটে নেই পেপ গার্দিওলা। সদ্য সমাপ্ত জুনে ক্লাব ফুটবলের পাঠ চুকিয়ে এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহারণ, অর্থাৎ বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে কথা বলেছেন এই স্প্যানিশ কিংবদন্তি টেকনিশিয়ান।

রোববার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাতে নিউজার্সিতে বিশ্বকাপ ফুটবলের শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে গার্দিওলার দেশ স্পেন এবং তার প্রিয় শিষ্য লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।

পুরো টুর্নামেন্টে নির্দিষ্ট কোনো দলকে সমর্থন করেননি জানিয়ে স্প্যানিশ গণমাধ্যমকে গার্দিওলা বলেন, তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো দলের পক্ষে না থাকলেও তার পছন্দের খেলোয়াড়দের প্রতি একটা ঝোঁক সবসময়ই ছিল। ফাইনালে কার হাতে ট্রফি উঠবে সেই ভবিষ্যদ্বাণী না করলেও দুই দলের শক্তি ও সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা বিশ্লেষণ করেছেন বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ ও ম্যানসিটির সাবেক এই কোচ।

নিজের দেশ স্পেনের ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে গার্দিওলার ইঙ্গিত, মাঝমাঠে রদ্রি ও পেদ্রি যদি নিজেদের নামের বিচার করতে পারেন এবং তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল নিজের সেরাটা দিতে পারেন, তবে স্পেন বড় পার্থক্য গড়ে দেবে। ইয়ামাল চোটের কারণে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও তার অবিশ্বাস্য দক্ষতা ও দাপুটে মনোভাব যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে মেসির ফর্মকে সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট মানছেন গার্দিওলা; কারণ মেসি এমন একজন জাদুকর যিনি একাই ম্যাচের যেকোনো পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

নিজের দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ার এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ৫৬ বছর বয়সী এই মাস্টারমাইন্ড জানান, ৩৭ বছর বয়সে বার্সেলোনায় শুরু করার পর এখন তিনি নতুন কিছু করতে চান। আপাতত পর্দার আড়ালে থাকতে পছন্দ করলেও ভবিষ্যতে একদিন ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ফেরার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। লিভারপুলের সাবেক বস ইয়ুর্গেন ক্লপকে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী আখ্যা দিয়ে গার্দিওলা স্মৃতিকাতর হয়ে বলেন, ক্লপ মাত্র ২০ মিনিটে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়ে তাকে রীতিমতো পাগল করে দিতেন।