‘এল ক্লাসিকো’র মহারণে মুখোমুখি বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদ

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় দ্বৈরথ ‘এল ক্লাসিকো’। স্পেনের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ আবারও মুখোমুখি হচ্ছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) বার্সেলোনার স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে লা লিগার চলতি মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে রাত ১টায় (২৬ অক্টোবর)।

মৌসুমের শুরুতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে বার্সেলোনা। লা লিগায় প্রথম নয়টি ম্যাচের সবকটিতেই জয় তুলে নিয়ে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে দলটি। অন্যদিকে, ২১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই ম্যাচে জয় পেলে শিরোপার দৌড়ে দুই দলের ব্যবধান আরও বাড়াতে পারবে বার্সেলোনা। আর রিয়ালের জন্য এটি ব্যবধান কমানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

বার্সেলোনার আক্রমণভাগে বড় ভরসা তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। লা লিগায় চলতি মৌসুমে নয় ম্যাচে আট গোল করেছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে রাফিনিয়ার পারফরম্যান্সও ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদের প্রধান গোলভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ১২ বলে জানিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এল ক্লাসিকোতেও বার্সেলোনার বিপক্ষে তাঁর গোল করার অতীত রেকর্ড রয়েছে।

বার্সেলোনা লা লিগায় টানা নয়টি ম্যাচ জিতলেও গত মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের কাছে ৪-২ গোলে হেরেছে। ফলে ঘরের মাঠে জয়ে ফিরতে চাইবে হান্সি ফ্লিকের দল।

অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়নস লিগে আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে এল ক্লাসিকোতে নামছে। দলটির কোচ হোসে মরিনিওর জন্যও ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

তবে দুই দলই কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে পাচ্ছে না। বার্সেলোনার দানি ওলমো, আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন ও এরিক গার্সিয়ার মতো খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি দলের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। রিয়াল মাদ্রিদে ভিনিসিউস জুনিয়র নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারবেন না; চোটের কারণে বাইরে রয়েছেন রদ্রিগোও।

এল ক্লাসিকো দুই দলের সমর্থকদের কাছে মর্যাদা ও ঐতিহ্যের লড়াই। লিগের পয়েন্ট তালিকায় অবস্থান, তারকাদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এবং দুই কোচের কৌশল—সব মিলিয়ে ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।

বার্সেলোনা চাইবে নিজেদের নিখুঁত লিগ-শুরুর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে। আর রিয়াল মাদ্রিদের লক্ষ্য হবে প্রতিদ্বন্দ্বীর মাঠে জয় তুলে নিয়ে শিরোপার লড়াইকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তোলা।