মেসিকে হারিয়ে ‘সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অর’ জিতলেন রোনালদো!

ফুটবলবিশ্বের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির লড়াই এবার নতুন এক মঞ্চে। সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম নির্বাচনে মেসিকে পেছনে ফেলেছেন পর্তুগিজ তারকা রোনালদো। ফুটবলপ্রেমীদের ভোটে তাঁর ২০০৮ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম পেয়েছে সর্বোচ্চ সমর্থন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেসির ২০১২ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম।

ব্যালন ডি’অরের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন ও উয়েফার যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ‘ব্যালন ডি’অর অব অলটাইম’ (বিওটি) ভোটাভুটি। বুধবার দিবাগত রাতে ফলাফল প্রকাশ করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

আয়োজকদের উদ্যোগে ব্যালন ডি’অরজয়ী খেলোয়াড়দের বিভিন্ন মৌসুমের মধ্যে সেরাটি বেছে নেওয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়। গত ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই ভোটে অংশ নিতে প্রতিটি ভোটের জন্য ১ ইউরো খরচ করতে হয়েছে। ভোটাররা একাধিকবার ভোট দেওয়ার সুযোগও পেয়েছেন।

এই আয়োজনের নিয়ম অনুযায়ী, বিজয়ীকে আলাদা কোনো ট্রফি দেওয়া হবে না। বরং ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে কোন খেলোয়াড়ের কোন মৌসুম সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছে, সেটিই ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোনালদোর ২০০৭-০৮ মৌসুম ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় সময়। ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৯ ম্যাচে ৪২ গোল করেছিলেন তিনি। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দলটি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জেতে।

ওই মৌসুমে রোনালদোর গোল করার দক্ষতা, গতি এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পারফরম্যান্স তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। বছর শেষে প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতে ব্যক্তিগত অর্জনেও সেই সাফল্যের স্বীকৃতি পান তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে ফুটবলবিশ্বে মেসি ও রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্বের তুলনা নিয়ে আলোচনা চলছে। দুজনই একাধিকবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন এবং ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে অসংখ্য সাফল্য অর্জন করেছেন।

সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম নির্বাচনের এই ভোটে রোনালদোর ২০০৮ সালের মৌসুম শীর্ষে এবং মেসির ২০১২ সালের মৌসুম দ্বিতীয় স্থানে থাকার খবর সেই পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তবে এ ফলাফলকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার নির্ধারণের চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটি নির্দিষ্ট একটি ভোটাভুটির ফল, যেখানে ভোটের পদ্ধতি ও অংশগ্রহণকারীদের পছন্দ ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।