সমুদ্রের গভীরে এক অবিশ্বাস্য সত্য!

তিমি যখন মারা যায়, তখন কী হয়

সমুদ্রের বিশালকায় প্রাণী তিমির মৃত্যু মানেই কেবল একটি প্রাণের অবসান নয়, বরং গভীর সমুদ্রের অন্ধকারে কয়েক হাজার প্রাণীর জন্য এক মহোৎসবের সূচনা। সামুদ্রিক বিজ্ঞানীরা তিমির এই পতনকে 'হোয়েল ফল' (Whale Fall) হিসেবে অভিহিত করেন, যা গভীর সমুদ্রের বাস্তুসংস্থানে এক অনন্য ভূমিকা পালন করে।

একটি মৃত তিমি যখন সমুদ্রের তলদেশে বা 'অ্যাবিস' অঞ্চলে পৌঁছায়, তখন এটি পুষ্টির একটি বিশাল ভাণ্ডারে পরিণত হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, একটি তিমির দেহ থেকে প্রাপ্ত পুষ্টি কয়েক হাজার বছর ধরে উপর থেকে পড়া জৈব কণার (Marine Snow) সমান। এই ভোজসভা চলে কয়েক দশক ধরে এবং একে মূলত তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়।

প্রথম পর্যায়ে আসে হ্যাগফিশ এবং স্লিপার শার্কের মতো খাদকরা, যারা তিমির নরম মাংস খেয়ে হাড় বের করে ফেলে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন ঘটে ‘ওসেড্যাক্স’ বা হাড়-খেকো কৃমির। এই অদ্ভুত প্রাণীরা হাড়ের ভেতর অ্যাসিড নিঃসরণ করে কোলাজেন শুষে নেয়। সবশেষে শুরু হয় রাসায়নিক পর্যায়, যেখানে ব্যাকটেরিয়া তিমির হাড় থেকে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস তৈরি করে। এই বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করেই এক বিশেষ ধরনের অনুজীব ও পোকা তাদের খাদ্য তৈরি করে।

গবেষক গ্রেগ রাউজ এবং আদ্রিয়ান গ্লোভার জানান, এই মৃত তিমিগুলো সমুদ্রের তলদেশে এক ধরনের 'স্টেপিং স্টোন' বা যোগসূত্র হিসেবে কাজ করে, যা অত্যন্ত বিরল প্রজাতির প্রাণীদের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে। তিমির এই শেষ দান গভীর সমুদ্রের বিরানভূমিতে এক বৈচিত্র্যময় প্রাণের স্পন্দন টিকিয়ে রাখে।