সিরিঞ্জে ভরে বিরল পিঁপড়া পাচার! বিক্রি হচ্ছে ২৩৫ পাউন্ডে 

কেনিয়ার ‘জায়ান্ট আফ্রিকান হারভেস্টার’ নামক এক বিরল প্রজাতির পিঁপড়াকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের বিশাল নেটওয়ার্ক। মূলত এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোতে শৌখিন সংগ্রাহকদের কাছে এই পিঁপড়ার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অভিনব সব উপায়ে এগুলো পাচার করা হচ্ছে। পাচারকারীরা ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, বিশেষ কাঁচের টিউব এবং ছোট কন্টেইনারে ভরে এসব জীবিত পিঁপড়া সীমান্ত পার করছে।

বর্তমানে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি এই অবৈধ ব্যবসার প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বিষয়টি এখন কেনিয়ার পরিবেশ এবং বৈশ্বিক জৈব নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি কেনিয়ার জোমো কেনিয়াত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঝ্যাং কেকুন নামে এক চীনা নাগরিককে ২,২০০টিরও বেশি জীবিত পিঁপড়াসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তার লাগেজ তল্লাশি করে ১,৯৪৮টি বিরল ‘মেসর সেফালোটেস’ (Messor cephalotes) প্রজাতির পিঁপড়া উদ্ধার করা হয়। আদালত তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ কেনিয়ান শিলিং জরিমানা করেছে। জানা গেছে, তিনি কেনিয়ার স্থানীয় এক দালালের কাছ থেকে প্রতিটি পিঁপড়া মাত্র ১০০ শিলিংয়ে কিনেছিলেন।

এই প্রজাতির পিঁপড়াগুলো দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। উজ্জ্বল লাল ও কালো রঙের মিশেলে থাকা এই পিঁপড়াগুলো আকারে বেশ বড় (রানি পিঁপড়া ২৫ মিমি পর্যন্ত লম্বা হয়)। পোকামাকড় বিশারদ ডিনো মার্টিন্স এদের ‘পিঁপড়ার জগতের বাঘ’ বলে অভিহিত করেছেন। শৌখিন সংগ্রাহকরা ‘ফরমিকারিয়াম’ নামক কৃত্রিম বাসায় এই পিঁপড়া লালন-পালন করেন এবং তাদের জটিল আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন। ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে একটি রানি পিঁপড়ার দাম ২৩৫ পাউন্ড (প্রায় ৩৬ হাজার টাকা) পর্যন্ত ওঠে, যা স্থানীয় দামের তুলনায় প্রায় ৪০ গুণ বেশি।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, এই পিঁপড়া পাচার হওয়া কেবল কেনিয়ার জীববৈচিত্র্যের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং যে দেশে এগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেই দেশের জন্যও বিপজ্জনক। এই পিঁপড়াগুলো কোনোভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশে ছড়িয়ে পড়লে তা আক্রমণাত্মক প্রজাতিতে পরিণত হতে পারে এবং স্থানীয় কৃষি ও বাস্তুসংস্থানের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। 

এছাড়া কেনিয়ার তৃণভূমিতে বীজ ছড়িয়ে দিয়ে বন্যপ্রাণী ও গবাদিপশুর খাবারের যোগান দিতে এই পিঁপড়াগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লন্ডন ও বেইজিংয়ের অনলাইন বাজারগুলোতে এই বিরল পিঁপড়ার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় কঠোর আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন।