আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ স্মার্টফোন। হাই-গ্রাফিক্স গেম খেলা, দীর্ঘ সময় ভিডিও রেকর্ডিং বা মাল্টিটাস্কিং করার সময় আমরা প্রায়ই লক্ষ্য করি ফোনটি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। কম্পিউটারে যেমন বড় ফ্যান দেখা যায়, স্মার্টফোনের সরু বডির ভেতরে তেমন কিছু সচরাচর দেখা যায় না।
তবে প্রশ্ন হলো—স্মার্টফোনে কি আসলেই কোনো কুলিং সিস্টেম থাকে? উত্তর হলো, হ্যাঁ। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে এখন স্মার্টফোনের ভেতরেও যুক্ত হচ্ছে ল্যাপটপ মানের শীতলীকরণ প্রযুক্তি।
স্মার্টফোনের প্রাণ হলো এর প্রসেসর বা চিপসেট। যখন প্রসেসর অতিরিক্ত কাজ করে, তখন বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। এই তাপ দ্রুত সরিয়ে নেওয়া না হলে ফোনের পারফরম্যান্স কমে যায়, যাকে কারিগরি ভাষায় 'থার্মাল থ্রটলিং' বলা হয়। এছাড়া অতিরিক্ত তাপ দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির আয়ু কমিয়ে দেয়। একারণেই স্মার্টফোনে কার্যকর কুলিং সিস্টেম থাকা জরুরি।
স্মার্টফোনে সাধারণত কোনো চলন্ত ফ্যান থাকে না (গেমিং ফোন বাদে)। এটি মূলত 'প্যাসিভ কুলিং' পদ্ধতিতে কাজ করে। বর্তমানে জনপ্রিয় কিছু প্রযুক্তি হলো:
১. গ্রাফাইট শিট (Graphite Sheets): সাধারণ স্মার্টফোনে এই স্তরটি বেশি দেখা যায়। এটি প্রসেসরের তাপ শুষে নিয়ে দ্রুত ফোনের পুরো বডিতে ছড়িয়ে দেয়, যাতে কোনো নির্দিষ্ট স্থান অতিরিক্ত গরম না হয়।
২. ভেপার চেম্বার কুলিং (Vapor Chamber Cooling): এটি সাধারণত ফ্ল্যাগশিপ ও গেমিং ফোনে থাকে। এটি একটি ছোট ফ্ল্যাট চেম্বার যার ভেতরে বিশেষ তরল থাকে। প্রসেসর গরম হলে ওই তরল বাষ্পীভূত হয়ে চেম্বারের ঠান্ডা অংশে চলে যায় এবং তাপ ছেড়ে দিয়ে আবার তরল হয়ে ফিরে আসে।
৩. কপার হিট পাইপ (Copper Heat Pipes): এটি একটি ছোট তামার নল। এর ভেতরে থাকা তরল প্রসেসরের তাপকে ফোনের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিয়ে যায়, যা দ্রুত তাপ বিকিরণে সাহায্য করে।
৪. অ্যাক্টিভ কুলিং ও থার্মাল পেস্ট: কিছু বিশেষ গেমিং ফোনে এখন ছোট বিল্ট-ইন ফ্যান ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া প্রসেসর ও কুলিং সিস্টেমের সংযোগস্থলে 'থার্মাল পেস্ট' ব্যবহার করা হয়, যা তাপ স্থানান্তর প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করে।
স্মার্টফোন যত শক্তিশালী হচ্ছে, এর কুলিং প্রযুক্তিও তত উন্নত হচ্ছে। তবে ফোন অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে বাঁচাতে চার্জে দিয়ে ফোন ব্যবহার না করা এবং সরাসরি সূর্যের আলো থেকে ফোন দূরে রাখা প্রয়োজন।