বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের তীব্র সংকট ও অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির মুখে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বিশ্বের শীর্ষ পিসি নির্মাতারা। বাজারের অনিশ্চয়তা কাটাতে প্রথমবারের মতো চীনা মেমোরি চিপ ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে এইচপি, ডেল, এসার এবং আসুস।
জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
স্মার্টফোন থেকে শুরু করে বিশালাকার ডেটা সেন্টার—সবখানেই মেমোরি চিপ অপরিহার্য। তবে বৈশ্বিক সরবরাহ ঘাটতি পুরো চেইনকে চাপে ফেলেছে, যার ফলে নতুন পণ্য বাজারে আসা বিলম্বিত হচ্ছে এবং উৎপাদন খরচ দ্রুত বাড়ছে। এই সংকট সামাল দিতেই দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠিত সরবরাহকারীদের বাইরে চীনের দিকে নজর দিচ্ছে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পিসি নির্মাতা এইচপি ইতোমধ্যে চীনের ‘চাংসিন মেমোরি টেকনোলজিস’ (CXMT)-এর পণ্য যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বৈশ্বিক ডিআরএএম (DRAM) সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের বাজারগুলোর জন্য এই চীনা চিপ ব্যবহার করতে পারে।
একই পথে হাঁটছে ডেল-ও। ২০২৬ সাল জুড়ে মেমোরির দাম বাড়তেই থাকবে—এমন আশঙ্কায় তারা সিএক্সএমটির ডিআরএএম পণ্য যাচাই করছে। অন্যদিকে, এসার ও আসুস জানিয়েছে, তাদের চীনা চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এই চিপ সংগ্রহ করে, তবে তারা তা ব্যবহারে আগ্রহী।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক প্রযুক্তি সরবরাহ ব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এতদিন শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলো মূলত স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স বা মাইক্রোনের মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করত। এখন সেই নির্ভরতা কমলে চীনের চিপ শিল্প বিশ্ববাজারে নতুন জায়গা করে নেবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র–চীন চলমান প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।