সোশ্যাল মিডিয়া কি শুধুই বিনোদন, নাকি শিশুদের জন্য একটি নীরব মরণফাঁদ? এই প্রশ্নটি আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালতের রায়ের মাধ্যমে। শিশুদের সচেতনভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত করে তোলার অভিযোগে টেক জায়ান্ট মেটা (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মালিক) এবং গুগলকে মোট ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৭২ কোটি টাকা) জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ বছর বয়সী ‘কেলি’ নামের এক তরুণীর দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে এই ঐতিহাসিক রায় এসেছে। কেলি অভিযোগ করেন, তিনি মাত্র ৬ বছর বয়সে ইউটিউব এবং ৯ বছর বয়সে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার শুরু করেন। দীর্ঘ সময় এসব অ্যাপ ব্যবহারের ফলে তিনি চরম আসক্ত হয়ে পড়েন এবং তার মধ্যে ‘বডি ডিসমরফিয়া’ (শরীরের গঠন নিয়ে অস্বাভাবিক উদ্বিগ্নতা) ও বিষণ্নতা দেখা দেয়। এর ফলে তিনি তার পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
আদালতের জুরি বোর্ড কেলিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ লাখ ডলার এবং শাস্তিমূলক জরিমানা হিসেবে আরও ৩০ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেন। রায়ের শর্ত অনুযায়ী, মোট জরিমানার ৭০ শতাংশ মেটা এবং ৩০ শতাংশ গুগল পরিশোধ করবে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো বিশেষ করে ‘ইনফিনিট স্ক্রল’ (অনন্ত স্ক্রলিং) ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার জন্য পরিকল্পিতভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
তবে এই রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেনি অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান দুটি। মেটা দাবি করেছে, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য একটি জটিল সামাজিক ইস্যু এবং এর জন্য শুধুমাত্র কোনো অ্যাপকে দায়ী করা ঠিক নয়। অন্যদিকে গুগল জানিয়েছে, ইউটিউবের উদ্দেশ্য এবং এর ফিচারগুলো সম্পর্কে এই মামলায় ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো যখন শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের কথা ভাবছে, তখন এই বিচারিক নজির বিশ্বজুড়ে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।