যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া ক্ষমতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সোমবার (১৫ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার কাছে এটা স্পষ্ট যে, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত। এই পদক্ষেপটি সময়ের সাথে সাথে মা-বাবাদের পারিবারিক আলোচনা এবং শিশুদের প্রত্যাশায় বড় পরিবর্তন আনবে। এটি আমাদের সন্তানদের আরও নিরাপদ ও সুখী করবে। এর ফলে তারা বেড়ে ওঠার জন্য এবং আরও বেশি সুযোগ পাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময়, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা পাবে।”
টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট এবং ইনস্টাগ্রাম-এর মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর পাশাপাশি অনলাইন গেমিং এবং লাইভ স্ট্রিমিং সার্ভিসগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে ব্রিটিশ সরকার। বিশেষ করে যেসব প্ল্যাটফর্মে শিশুরা অপরিচিত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলার সুযোগ পায়, সেগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে।
প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তুলে বলেন, “বাস্তব জগতে এমন কোনো পরিস্থিতি কি আছে যেখানে আপনি আপনার সন্তানকে একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা করতে ছেড়ে দেবেন? নিশ্চয়ই না। তাই আমরা এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের আসক্ত করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি এবং এগুলো তাদের বিপজ্জনক কনটেন্টের মুখোমুখি করছে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ এই সংক্রান্ত আইন পাস হবে এবং আগামী বছরের বসন্তকাল থেকে এই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর হবে।
ব্রিটিশ সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী জুলাই মাসে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে, যার মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ওভারনাইট কারফিউ’ (রাতকালীন নিষেধাজ্ঞা) এবং অ্যাপের ‘ইনফিনিট স্ক্রলিং’ বা অবিরাম স্ক্রল করার সুবিধায় বিরতি দেওয়ার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স