যুদ্ধ অবসান এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার জটিল আলোচনার সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যকার পরোক্ষ সমঝোতা প্রক্রিয়ার গতিপ্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে বিশ্ববাজারে তেলের ফিউচার প্রাইস বা অগ্রিম মূল্য হ্রাস পেয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) আন্তর্জাতিক সময় (জিএমটি) রাত ২টা ৫৩ মিনিটের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ ফিউচার্সের দাম ব্যারেল প্রতি ১.৪২ ডলার বা ১.৪৩ শতাংশ কমে ৯৮.১৬ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, আমেরিকার ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১.৬৬ ডলার বা ১.৭৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯২.২৩ ডলারে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালানোর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম একলাফে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। মূলত গত সপ্তাহের শেষদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে যে আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছিল, এই মার্কিন হামলার পর তা বড় ধরনের ধাক্কা খায় এবং বাজার আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
চুক্তি বা সমঝোতার ভবিষ্যৎ এখনো অস্পষ্ট ও ধোঁয়াশাপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি ইতিবাচক খবর দিয়েছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিছু এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) পরিবাহী ট্যাঙ্কার বা বড় জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে আশা তৈরি হয়েছে যে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি হয়তো খুব দ্রুতই সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। আর এমনটা হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, যা মূলত বুধবার তেলের দাম কিছুটা কমিয়ে আনতে ভূমিকা রেখেছে। সূত্র: আল জাজিরা