সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের আমানত এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ ৬০ হাজার সুইস ফ্রাঁ বা প্রায় ১২ হাজার ৭৫১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। এর আগে ২০২৪ সালে এই আমানতের পরিমাণ ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা প্রায় ৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা ছিল আগের তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ঐতিহাসিকভাবে আর্থিক গোপনীয়তার জন্য পরিচিত সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো সব ধরনের মুদ্রায় রাখা বাংলাদেশি নাগরিক, বাসিন্দা বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আমানত পর্যবেক্ষণ করলেও প্রতিবেদনে আমানতকারীর ধরন বা উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করা হয় না। তথ্যানুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই আমানত ৪৮ কোটি থেকে ৬৬ কোটি ফ্রাঁ-র মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ২০২১ সালে করোনা-পরবর্তী সময়ে তা সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ১০ লাখ ফ্রাঁতে পৌঁছালেও অবৈধ আর্থিক প্রবাহের ওপর বৈশ্বিক নজরদারির কারণে ২০২২ সালে তা হঠাৎ কমে যায় এবং ২০২৩ সালে রেকর্ড সর্বনিম্ন ১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্রাঁতে নেমে আসে। তবে ২০২৪ সালে এসে এই আমানতের পরিমাণ এক লাফে ৩৩ গুণ বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশিদের আমানত বাড়লেও গত বছর সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকদের আমানতের পরিমাণ কমেছে। ভারতের আমানত কমে দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৩১ লাখ সুইস ফ্রাঁ এবং পাকিস্তানের আমানত কমে হয়েছে ২৩ কোটি ৬৩ লাখ ফ্রাঁ। এদিকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংক্রান্ত শ্বেতপত্র অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মোট ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, হংকং, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভারতে সরাসরি বা রুট হিসেবে ব্যবহার করে পাচার করা হয়।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ডিসটিংগুইশড ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সুইস ব্যাংকগুলোতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট ও প্রবাসীদের জমার পাশাপাশি অবৈধ অর্থও থাকতে পারে, তাই আমানত বৃদ্ধির একমাত্র কারণ পাচার করা অর্থ কিনা তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যায় না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে সুইস ব্যাংকের কাছে তথ্য চাইতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের হার মাত্র ২ শতাংশের মতো হওয়ায় এই অর্থ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জটিল ও কঠিন, তবুও জড়িতদের ওপর চাপ তৈরিতে প্রচেষ্টা চালানো উচিত। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মুদ্রার অবমূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগের কারণে ধনী ব্যক্তিরা বিদেশে সম্পদ স্থানান্তর করায় এই হঠাৎ আমানত বৃদ্ধি পেয়ে থাকতে পারে।