মুরগি-চালসহ বাজারে কোন পণ্যের দাম কত বাড়লো

রাজধানীর খুচরা বাজারে আবারও বেড়েছে কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। গত তিন থেকে চার দিনের ব্যবধানে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে আলু, বেগুন, কাঁচা মরিচ এবং বিভিন্ন ধরনের চালের দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় এসব পণ্যের দামে চাপ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। একইভাবে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে এখন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, খামার ও পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ায় তার প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে পড়েছে।

বিক্রেতারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে প্রচণ্ড গরম, বিদ্যুৎ সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে অনেক খামারে নতুন করে ব্রয়লার মুরগি তোলা হয়নি। আবার লোকসানের আশঙ্কায় অনেক খামারি নির্ধারিত সময়ের আগেই মুরগি বিক্রি করে দিয়েছেন। এতে বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়েছে।

আলুর বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে একই আলু ২০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও এখন ক্রেতাদের বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে।

চালের বাজারেও কিছুটা অস্থিরতা রয়েছে। সরু চালের দাম কেজিতে প্রায় ২ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৭২ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা এবং মোটা চালের দাম ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চিনিগুঁড়া বা পোলাওয়ের চালের দাম। এক মাসের ব্যবধানে এ চালের দাম কেজিতে প্রায় ১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেলেও কাঁচা মরিচ ও বেগুনের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় এবং বেগুন ৭০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগের তুলনায় দুই পণ্যের দামই কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেশি।

সবজি বিক্রেতারা জানান, চলতি সপ্তাহে কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে মাঠ থেকে সবজি সংগ্রহ ও বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে কাঁচা মরিচ ও বেগুনের মতো পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজারে দাম কিছুটা কমে আসতে পারে বলে তারা আশা করছেন।

এদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের ব্যয় আরও বেড়েছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা গেলে দামের ওপর চাপ কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।