২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মজুত থাকায় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রয়েছে এবং জনগণকে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর বাদামতলী পাইকারি চালের বাজার ও নয়াবাজার কাঁচাবাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাজেট ঘোষণার পরও চালের পাইকারি ও খুচরা বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় আছে। নতুন ও পুরোনো চালের দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও বাজারে কোনো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, দেশে চালের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পর্যাপ্ত মজুত আছে। শুধু চাল নয়, অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামও স্থিতিশীল রয়েছে। এ সময় খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানান, সরকারের বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সন্তোষজনকভাবে এগোচ্ছে এবং মজুত ও সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।
বাণিজ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই না করে বাজার নিয়ে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে,এমন সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার থেকে বিরত থাকা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করা।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বাজেট ঘোষণার পর বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপ ও পর্যাপ্ত মজুত পরিস্থিতি সেই আশঙ্কা দূর করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজেটের প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়তে সময় লাগে, তবে সরকারের নজরদারি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা কার্যকর থাকলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ভোক্তারা জানিয়েছেন, বাজারে চাল, ডাল, তেল, চিনি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থিতিশীল রয়েছে। তারা আশা করছেন, সরকারের আশ্বাস অনুযায়ী ভবিষ্যতেও বাজারে অস্থিরতা দেখা দেবে না।
এই প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যমন্ত্রী ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য জনগণের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। তবে বাজার পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ পরিবর্তন বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সরবরাহে চাপ পড়তে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত’ নিয়ে সিপিডি’র পর্যালোচনা
ইসলামী ব্যাংককে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
রেকর্ড উচ্চতায় সোনা-রুপার দাম