বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সুশাসন, ক্রয়প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি পর্যালোচনার পাশাপাশি একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পের ফলাফল ও প্রভাব মূল্যায়নে আগস্টে ঢাকায় আসছে বিশ্বব্যাংকের দুটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
এর মধ্যে, ৯ থেকে ১৩ আগস্ট গভর্ন্যান্স গ্লোবাল প্র্যাকটিসের একটি মিশন এবং ৯ থেকে ১৬ আগস্ট রেজিলিয়েন্স, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট (রেলি) প্রকল্পের ফলাফল মূল্যায়ন মিশন বাংলাদেশ সফর করবে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের অপারেশনস ম্যানেজার গেইল এইচ মার্টিন পৃথক দুটি চিঠিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকীকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন। প্রথম চিঠিটি গত ২১ জুলাই এবং দ্বিতীয়টি ২৬ জুলাই (রোববার) পাঠানো হয়।
রোববারের চিঠিতে জানানো হয়, বিশ্বব্যাংকের গভর্ন্যান্স গ্লোবাল প্র্যাকটিসের প্র্যাকটিস ম্যানেজার হিশাম আহমেদ ওয়ালি এবং সিনিয়র অপারেশনস অফিসার আলেকসান্দার কোচেভস্কি ৯ থেকে ১৩ আগস্ট ঢাকা সফর করবেন। এই মিশনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পগুলোর ফিডিউশিয়ারি (আর্থিক জবাবদিহি), নন-ফিডিউশিয়ারি এবং সুশাসনসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা।
সফরকালে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট (পিআইইউ) এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়, জবাবদিহি এবং চলমান সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
অন্যদিকে, ২১ জুলাইয়ের চিঠিতে বিশ্বব্যাংক জানায়, রেজিলিয়েন্স, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট (রেলি) প্রকল্পের লার্নিং অ্যান্ড রেজাল্টস নোট মিশন ৯ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করবে।
চিঠি অনুযায়ী, এই মিশনের উদ্দেশ্য হলো বিশ্বব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্পের ফলাফল, অর্জন, উন্নয়নগত প্রভাব, আর্থিক ও অর্থনৈতিক দক্ষতা মূল্যায়ন করা। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা, সফলতা এবং উত্তম চর্চাগুলো নথিভুক্ত করা হবে। এজন্য প্রকল্পের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হবে।
রেলি প্রকল্প মূল্যায়ন মিশনে নেতৃত্ব দেবেন সামিনা ইয়াসমিন। তিনি টাস্ক টিম লিডার এবং সিনিয়র এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট। তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের কৃষি, অর্থনীতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন, প্রকল্প মূল্যায়ন এবং রেজিলিয়েন্স সূচক বিশ্লেষণ–সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। এছাড়া জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) একজন বিশেষজ্ঞও এই মিশনে অংশ নেবেন।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, এই মিশন বাস্তবায়নকারী সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, আগস্টে পরপর দুটি মিশনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক একদিকে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সুশাসন, আর্থিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা পর্যালোচনা করবে, অন্যদিকে একটি বড় সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তব ফলাফল ও প্রভাব মূল্যায়ন করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নের মানোন্নয়ন এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে এসব মূল্যায়নের সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।