ক্রসবর্ডার ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় কী সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা

দেশে পেপল-পেওনিয়ারের লেনদেন সেবা চালু হচ্ছে

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

বিদেশি লেনদেন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পেপল ও পেওনিয়ারের মতো আন্তর্জাতিক লেনদেন ও অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে আন্তসীমান্ত বা ক্রসবর্ডার ডিজিটাল পেমেন্ট প্রক্রিয়াকরণের জন্য একটি ‘ব্যাংক-মধ্যস্থতাকারী কাঠামো’ চালু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে দেশের ব্যাংকগুলো পেপল-পেওনিয়ারের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে এই সেবা দেশে চালু করতে পারবে।

আন্তর্জাতিক সেবামুখী বাণিজ্য সহজ করা, ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং দেশের লেনদেন কাঠামোকে আধুনিক করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় ব্যাংকগুলো বিদেশি লেনদেন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সেবাদাতা এবং অন্যান্য বৈধ লেনদেন সমাধান প্রদানকারীর সঙ্গে যৌথভাবে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা দিতে পারবে। নির্দেশনায় এদের বলা হয়েছে ক্রসবর্ডার ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান।

কীভাবে চলবে এই লেনদেন
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের নামে ‘ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট’ বা ডিভিএ নামের একটি ডিজিটাল ওয়ালেট বা স্টোরড-ভ্যালু অ্যাকাউন্ট খুলতে সহায়তা করবে। তবে এসব ব্যক্তিগত হিসাব সরাসরি বা আলাদাভাবে চলবে না, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি হিসাব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অধীনে থাকা একটি ‘মাস্টার ডিভিএ’ বা সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। লেনদেনে স্বচ্ছতা রাখতে ব্যাংকের সিস্টেমে রিয়েল টাইম মনিটরিং ও একটি সমান্তরাল খতিয়ান রাখতে হবে। অব্যবহৃত কোনো তহবিল থাকলে সেটি ব্যাংকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং নিয়ম মেনে তা ফেরত বা সমন্বয় করতে হবে।

কোন কাজে ব্যবহার করা যাবে
এই নতুন সুবিধা ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও ফ্রিল্যান্সার, সবাই পাবেন বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনের ক্ষেত্রে। ব্যক্তিগত, চিকিৎসা বা দাপ্তরিক ভ্রমণ কোটার আওতায় বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারেও এই ডিজিটাল ওয়ালেট কাজে লাগবে। ছোটখাটো আন্তর্জাতিক কেনাকাটা বা ফি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া প্রকৃত প্রয়োজনে সদস্যপদ ফি, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের খরচ, ভিসা প্রসেসিং ফি এবং অনলাইনে হোটেল বুকিংয়েও এটি ব্যবহার করা যাবে।

রপ্তানিকারক ও ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য সুবিধা
এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) ও রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাবের বিপরীতেও এই সুবিধা মিলবে। ইআরকিউ হিসাবধারী প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যবসায়িক খরচের জন্য ডিভিএ হিসাব ব্যবহার করতে পারবেন। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সার ও ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা তাঁদের অর্জিত অর্থ সহজেই দেশে ফেরত আনতে পারবেন।

বিদেশি পর্যটকদের জন্যও সুযোগ
বাংলাদেশে আসা বিদেশি নাগরিক বা পর্যটকেরাও দেশীয় মার্চেন্ট পয়েন্টে পেমেন্ট করতে এই সেটেলমেন্ট সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই সেবা চালুর আগে ব্যাংকগুলোকে তাদের বিস্তারিত তথ্য, কারিগরি অবকাঠামো ও নিরাপত্তা কাঠামো জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে আগাম অনুমতি বা স্বীকৃতি নিতে হবে। পাশাপাশি অর্থ পাচার প্রতিরোধ ও গ্রাহক যাচাই নীতি মেনে নিয়মিত লেনদেনের তথ্য প্রতিবেদন আকারে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত