আলোচিত ও বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করে জাতীয় সংসদে ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল’ পাস হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। একই সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনও সংসদে উপস্থাপন করা হয়।
সংশোধিত আইনে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের ধারাটি পুরোপুরি রহিত করা হয়েছে। ধারা বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংকটাপন্ন তফশিলি ব্যাংকের পুনর্গঠন, মূলধন ও তারল্য সংকট মোকাবিলা এবং ব্যাংক অবসায়ন না করে সরকারি অর্থের ওপর চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে বাজারভিত্তিক কাঠামো হিসেবে ধারাটি সংযোজন করা হয়েছিল।
তবে ধারাটির আওতায় অংশগ্রহণের জন্য যে কঠোর নিয়ন্ত্রক শর্ত রাখা হয়েছিল, আইন কার্যকর হওয়ার পর কোনো ব্যক্তি, শেয়ারহোল্ডার বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী তা পূরণ করতে পারেননি। ফলে ধারাটির নির্ধারিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত না হওয়ায় তা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
নথি থেকে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত মূল ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশে ধারা ছিল না। পরবর্তীতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপ দেওয়ার সময় ধারাটি যুক্ত করা হয়।
ওই ধারার অধীনে কোনো ব্যাংককে রেজোল্যুশন প্রক্রিয়ায় নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সাবেক শেয়ারহোল্ডার অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ব্যাংকটির সম্পদ, দায় ও শেয়ার পুনর্গ্রহণের আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
আইনটি পাস হওয়ার পর থেকেই ধারাটি নিয়ে আর্থিক খাতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের প্রক্রিয়ায় বিতর্কিত সাবেক পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা দেখা দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে ধারাটির শর্ত পূরণ করতে সক্ষম কোনো যোগ্য বিনিয়োগকারী না পাওয়া এবং এ নিয়ে তৈরি বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার শেষ পর্যন্ত ১৮(ক) ধারা বাতিলের উদ্যোগ নেয়।