চাঙা এশিয়ার শেয়ারবাজার

ওয়াল স্ট্রিটে ব্যাপক উত্থানের পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এশিয়ার শেয়ারবাজারের অধিকাংশ সূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শেয়ারে শক্তিশালী বিনিয়োগ এবং তেলের দামে সাম্প্রতিক পতন বৈশ্বিক বাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে।

মঙ্গলবার দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ সূচক ০.২ শতাংশ বেড়ে ৮,৭৪৮.২০ পয়েন্টে ওঠে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি ১.৬ শতাংশ লাফ দিয়ে ৭,১২০.২৫ পয়েন্টে পৌঁছায়। হংকংয়ের হ্যাং সেং প্রায় ০.৬ শতাংশ বেড়ে ২৫,১৮৫.২৬ এবং চীনের সাংহাই কম্পোজিট ০.৪ শতাংশ বেড়ে ৩,৯৬৪.৪৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়। জাপানের বাজার ছুটির কারণে বন্ধ ছিল; বৃহস্পতিবার সেখানে আবার লেনদেন শুরু হওয়ার কথা।

ওয়াল স্ট্রিটে বড় উত্থান

এর আগে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যায়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১.৫ শতাংশ বেড়ে ৭,৭৬৪.৭০ পয়েন্টে ওঠে। ফলে এটি গত মাসে গড়া সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের মাত্র ০.৪ শতাংশের মধ্যে চলে আসে।

ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ৩৬৬.১৯ পয়েন্ট বা ০.৭ শতাংশ বেড়ে ৫২,০৪৮.৮৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়। অন্যদিকে প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট ২.৩ শতাংশ বেড়ে ২৭,১২২.০৯ পয়েন্টে উঠে নতুন রেকর্ড গড়ে।

চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারে শক্তিশালী কেনাকাটা ওয়াল স্ট্রিটের এই উত্থানে বড় ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক দরপতনের পর এআই খাতের শেয়ারে আবারও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে।

তেলের দামে ওঠানামা

বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের জন্য তেলের দামও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সোমবার তেলের দাম কমে যাওয়ায় বাজারে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমে।

মঙ্গলবার এশিয়ার লেনদেনে অবশ্য তেলের দাম সামান্য বেড়েছে। মার্কিন বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেল ০.৪৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬.১৯ ডলারে এবং ব্রেন্ট ক্রুড ০.৬৫ শতাংশ বেড়ে ১০০.৯৯ ডলারে ওঠে। তবে গত সপ্তাহে প্রায় ১১০ ডলারে পৌঁছানোর তুলনায় দাম এখনো অনেক নিচে রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের অনিশ্চয়তার কারণে তেলের বাজারে ব্যাপক ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। কিছু অপরিশোধিত তেল হরমুজ দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সরবরাহ এখনো অনেক কম বলে বাজারে উদ্বেগ রয়েছে।

বন্ডের বাজারেও স্বস্তি

তেলের দামের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডবাজারেও কিছুটা স্বস্তি এসেছে। ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার সোমবার ৫.০১ শতাংশ থেকে কমে ৪.৯৫ শতাংশে নেমে আসে।

গত সপ্তাহে এই সুদহার ৫ শতাংশের ওপরে উঠে গিয়েছিল, যা ২০২৩ সালের পর প্রথমবার। ফলে সুদহারের চাপ কিছুটা কমায় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ে।

এশিয়ায় প্রযুক্তি শেয়ারের নেতৃত্ব

এশিয়ার বাজারেও প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলোর শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখা গেছে। রয়টার্সের বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রযুক্তি শেয়ারের উত্থান, তেলের দামে সাম্প্রতিক পতন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে ইতিবাচক করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্য সমঝোতা নিয়েও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক সামনে থাকায় বাণিজ্য উত্তেজনা কমানোর সম্ভাব্য উদ্যোগের দিকে নজর রয়েছে বাজারের।

সামনে নজর সুদের হার ও ভূরাজনীতিতে

বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হারনীতি, তেলের সরবরাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত—সবকিছুই আগামী দিনগুলোর বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। পাশাপাশি এআই খাতের শেয়ারের মূল্যায়ন কতটা টেকসই থাকে, সেটিও বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

এ মুহূর্তে ওয়াল স্ট্রিটের শক্তিশালী উত্থানের ইতিবাচক প্রভাব এশিয়ার বাজারে স্পষ্ট হলেও, তেল, সুদের হার ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে অস্থিরতার ঝুঁকি এখনও রয়েছে।