অ্যাপলের ত্রৈমাসিক আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় এশিয়ার শেয়ারবাজারে সোমবার (২ নভেম্বর) স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মধ্যে অ্যাপলের আয় ও ব্যবসায়িক পূর্বাভাস বাজারে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, অ্যাপল চলতি প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ২ ডলার আয় এবং ১১৩ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব অর্জন করতে পারে। গত বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ ডলার ৮৫ সেন্ট। অক্টোবরের মাঝামাঝি আইফোন ১৮-এর আগাম বুকিং শুরু হওয়ায় নতুন মডেলটির প্রাথমিক বিক্রির চিত্র সম্পর্কেও প্রতিষ্ঠানটি পূর্বাভাস দিতে পারে বলে আশা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
এআই অবকাঠামো, বিশেষ করে ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় না করায় প্রযুক্তি খাতের অন্য বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় অ্যাপলকে অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। টানা চার মাস প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম বাড়ায় বাজারমূল্যের দিক থেকে এনভিডিয়াকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান তালিকাভুক্ত কোম্পানির অবস্থান দখল করেছে অ্যাপল।
অ্যাপলকে ঘিরে ইতিবাচক প্রত্যাশার প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের আগাম লেনদেনেও। সোমবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের ফিউচারস ০.৪ শতাংশ এবং নাসডাকের ফিউচারস ০.৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে অক্টোবরে নাসডাকের দর প্রায় ৭ শতাংশ কমেছিল, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলের শুল্কসংক্রান্ত অস্থিরতার পর সূচকটির সবচেয়ে বড় মাসিক পতন।
এআই খাতে বিনিয়োগের বিপুল ব্যয় ও নগদ অর্থের প্রবাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে চাপ তৈরি করেছে। গত শুক্রবার ইন্টেলের শেয়ারের দাম প্রায় ২৯ শতাংশ পড়ে যাওয়ায় এএমডিসহ অন্য চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এআই অবকাঠামো খাতে মূলধনি ব্যয় চলতি বছর প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৮০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৭ সালে তা বেড়ে ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। তবে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধির হার ২০২৬ সালের প্রায় ৩০ শতাংশ থেকে পরের বছর ১৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন তাঁরা।
গোল্ডম্যান স্যাকসের প্রধান মার্কিন ইকুইটি কৌশলবিদ বেন স্নাইডার এক বিশ্লেষণে বলেন, কোম্পানিগুলোর আয় বাড়লেও সেই প্রবৃদ্ধির গতি আর বাড়ছে না। তাঁর মতে, তৃতীয় প্রান্তিকের ফলাফলও ইঙ্গিত দিচ্ছে, এআই খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলেও ব্যয় বৃদ্ধির গতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পথে।
এদিকে এশিয়ার বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। সোমবার জাপানের নিক্কেই সূচক ০.১ শতাংশ কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক বেড়েছে ০.৮ শতাংশ। তবে অক্টোবরে সূচকটি ১৬ শতাংশ হারিয়েছিল। জাপান বাদে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারের এমএসসিআই সূচক কমেছে ০.২ শতাংশ। ইউরোপে ইউরো স্টক্স ৫০ ও ডিএএক্স ফিউচারস ০.১ শতাংশ বেড়েছে, অন্যদিকে এফটিএসই ফিউচারস অপরিবর্তিত ছিল।
সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা
শেয়ারবাজারে গত মাসের দরপতনের ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত সরকারি বন্ডের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আগামী ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়াবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সুদের হার ০.২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ার সম্ভাবনা এখনো ৭২ শতাংশ। তবে সামগ্রিকভাবে সুদের হার বৃদ্ধির যে পরিমাণ বাজারে প্রত্যাশিত ছিল, তা এক মাস আগের তুলনায় কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার বেড়ে ৪.৯৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে অক্টোবরে এটি সর্বোচ্চ ৫.৩৬৪৫ শতাংশে উঠেছিল। দুই বছর মেয়াদি বন্ডের মুনাফার হার ছিল ৪.৬১২ শতাংশ।
চলতি সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ ব্যাংক, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ও সুইডেনের রিক্সব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ধারণা করছে বাজার। তবে নরওয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে।
এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অক্টোবর মাসের উৎপাদন খাতের আইএসএম সূচক প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি শুক্রবার প্রকাশিত হবে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান প্রতিবেদন। বিশ্লেষকদের গড় পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ২৯ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পর অক্টোবরে তা বেড়ে ৬৫ হাজার হতে পারে। বেকারত্বের হার ৪.২ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকার ধারণা করা হচ্ছে।
কমেছে তেলের দাম, বেড়েছে সোনার দর
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা চলতে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১১১ ডলার ১৫ সেন্টে নেমেছে। এর আগে অক্টোবরে ব্রেন্টের দাম ১৩.৬ শতাংশ বেড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ২.৩ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০১ ডলার ৭৩ সেন্ট হয়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে অক্টোবরে সোনার দাম ৬.৮ শতাংশ কমেছিল। শেয়ারবাজারে লোকসান সামাল দিতে কিছু বিনিয়োগকারী সোনা বিক্রি করছেন—এমন আলোচনাও গত মাসে দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল।
সূত্র: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে ২ তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ
ইরানি নেতাদের হত্যায় আমরা হয়তো বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি: ট্রাম্প
'নতুন কোনো হামলা হলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপেও পৌঁছাবে'