বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন নেই

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকতে পারে- এমন ধারণা স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি করছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৪ হাজার ৩৪২ দশমিক ৪১ ডলার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৩৭৯ দশমিক ৩০ ডলারে নেমেছে। মূল্যস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির বিরুদ্ধে সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়। তবে সুদের হার বেশি থাকলে সুদ বা মুনাফা পাওয়া অন্যান্য সম্পদে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে। এতে স্বর্ণের চাহিদা কমতে পারে।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পরিমাণ কম। তাই বিনিয়োগকারীরা ফেড কর্মকর্তাদের বক্তব্যের দিকে নজর রাখছেন। বিশেষ করে অক্টোবরে আবারও সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে ফেডের অবস্থান কী, তা বোঝার চেষ্টা করছেন তারা। পেপারস্টোনের গবেষণা বিভাগের প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, অপরিশোধিত তেলের দাম সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা কমেছে। তবে আবার তেলের দাম বাড়তে শুরু করলে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়বে। এতে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও জোরালো হতে পারে এবং স্বর্ণের দামের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

গত সপ্তাহে ফেড সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে আগামী মাসগুলোতে আরও সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। সেন্ট লুইস ফেডের প্রেসিডেন্ট আলবার্তো মুসালেম বলেছেন, মূল্যস্ফীতি কমাতে ফেডকে আরও সুদের হার বাড়াতে হতে পারে। শক্তিশালী চাহিদার পাশাপাশি তেলের বাইরেও বিভিন্ন পণ্যের দামে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ছে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও বাজারে প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর ওপর সম্ভাব্য হামলা বাতিল করেছেন- এমন খবরের পর হুতিরা সৌদি সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকার দিকে কৌশলগত পাহাড়ি অঞ্চল দখলে এগোচ্ছে। অন্যদিকে পাঁচটি সেশনের মধ্যে প্রথমবারের মতো তেলের দাম বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের মধ্যেই তেলের দাম বেড়েছে।

মঙ্গলবার স্পট রুপার দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম কমেছে ০ দশমিক ৬ শতাংশ, আর প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ।