বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুক্তবাণিজ্য জোট রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) বাংলাদেশের যোগদানের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। জোটের আবেদনকারী দেশগুলোর সদস্যপদ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে নতুন করে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে অগ্রগতি স্বাগত জানানো হয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম আরসিইপি মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সংহতি জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়।
আরসিইপির যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জোটের আবেদনকারী দেশগুলোর সদস্যপদ লাভের প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৫ সালে আরসিইপি নেতাদের দেওয়া নির্দেশনা এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জোটের কার্যকর বাস্তবায়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক গভীর করা এবং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি আরসিইপিতে যোগদানের আগ্রহ দেখিয়েছে চিলি, শ্রীলঙ্কা ও হংকং (চীন)। আবেদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে সদস্যপদ অর্জনের পথ তৈরি হবে। আরসিইপির নথিতে এ প্রক্রিয়াকে জোটের সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বের বৃহৎ আঞ্চলিক বাণিজ্য কাঠামোগুলোর একটি আরসিইপি। আসিয়ানের ১০ সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও নিউজিল্যান্ড এই জোটের সদস্য। বাংলাদেশের জন্য এ জোটে অন্তর্ভুক্তি হলে বড় আঞ্চলিক বাজারে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি বাজার ধরে রাখা, শুল্কসংক্রান্ত সুবিধা নিয়ে আলোচনা, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে সদস্যপদ অর্জনের আগে বাংলাদেশকে আরসিইপির নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আবেদনকারী দেশের বাণিজ্যনীতি, বাজারে প্রবেশাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও কারিগরি মূল্যায়নের পরবর্তী ধাপগুলো এ প্রক্রিয়ার অংশ হবে।
ম্যানিলার বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগগুলো যাতে আরসিইপি কাঠামোর সুবিধা নিতে পারে, সে বিষয়েও জোটের কার্যক্রম আরও জোরদারের কথা বলা হয়েছে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উপমন্ত্রী দিয়াহ রোরো এস্তি উইদিয়া পুত্রি এবং নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য কমিটির সদস্য ড. শেন রেটি। বৈঠকের পর প্রকাশিত বিবৃতিতে আরসিইপিকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যতমুখী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কাঠামো হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।