বিশ্ববাজারে তেলের দামে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ বাড়ার ইতিবাচক প্রভাব ছাপিয়ে নতুন করে সরবরাহ ঝুঁকির শঙ্কা তৈরি হওয়ায় বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ডব্লিউটিআই (ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট) ক্রুডের দাম ১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ৩৮ ডলারে এবং ব্রেন্ট ক্রুড ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০১ দশমিক ৬০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বিশ্ব তেল সরবরাহ শৃঙ্খলের দুই প্রান্তে নতুন করে শঙ্কা দেখা দেওয়ায় এই দাম বৃদ্ধি পেল।
যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা
মার্কিন আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মেক্সিকো উপসাগরে ঘনীভূত একটি ঝড় আগামী দুই দিনের মধ্যে ২০২৬ সালের প্রথম আটলান্টিক হারিকেনে রূপ নিতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঝড়ের সম্ভাব্য এই পথের মধ্যে মার্কিন অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের ১৫ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের ৫ শতাংশ এলাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া দেশটির মোট দৈনিক ১৮২ লাখ ব্যারেল পরিশোধন ক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ বা ৬টি শোধনাগারও এর প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।
সৌদি আরবে উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ বাড়ার পরও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার শঙ্কা রয়ে গেছে। গত মঙ্গলবার সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান জানিয়েছেন, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক সরবরাহ বেড়ে ৫৮ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ভিটলের প্রধান জানিয়েছেন, গত ৭ থেকে ১০ দিনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ট্যাংকারের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল ক্রুড অয়েল এবং ২০ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি পাঠানো হয়েছে।
তবে রয়টার্সের বাজার সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোল মজুত হ্রাস পেলেও ডিস্টিলেট বা পরিশোধিত জ্বালানির মজুত সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের মজুত কমেছে ২০ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের আশপাশের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আঞ্চলিক তেল সরবরাহে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। সৌদি বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই তীব্র হওয়ায় গত সোমবার সন্ধ্যায় জাজান ও নাজরানের বিমানবন্দরে দুই দফা হামলা চালানো হয়েছে। হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রাভিযানের পর সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের আক্রমণ শুরু করার পরিপ্রেক্ষিতে এই হামলাগুলো ঘটে।
সিডনির ‘এক্স অ্যানালিস্টস’-এর প্রধান তেল বিশ্লেষক মুকেশ সহদেব জানিয়েছেন, এই ধরনের হামলা ও শোধনাগার বন্ধ থাকার ঘটনা তেলের উচ্চ মূল্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, বস্তুগতভাবে উত্তেজনা প্রশমিত না হলে তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি উচ্চ পর্যায়েই থাকবে।
একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে চলমান বৃহত্তর উত্তেজনাও এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের আট মাসব্যাপী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে দেশটি কে পরিচালনা করছে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবিবার বলেছেন, ওয়াশিংটন খুব ভালো করেই জানে যে ইরানে তাদের সমকক্ষ কে এবং দেশটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে।
সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া