দেশের বীমা খাতকে ব্যবহার করে অর্থপাচার ও অবৈধ সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ঠেকাইতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এই লক্ষ্যে দেশের সকল বীমা প্রতিষ্ঠানের জন্য মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত নতুন বেশ কিছু নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি বীমা প্রতিষ্ঠানকে নিজ উদ্যোগে একটি শক্তিশালী ‘কেন্দ্রীয় কমপ্লায়েন্স ইউনিট’ গঠন করতে হবে। একই সাথে গ্রাহকদের সঠিক পরিচয় যাচাই, অস্বাভাবিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নথি দীর্ঘদিন সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও দেশীয় আইনের সাথে মিল রেখে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব কমপ্লায়েন্স ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করতে হবে। এই ফ্রেমওয়ার্ক পরিচালনা পর্ষদ বা ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পরেই কার্যকর করা সম্ভব হবে।
বিএফআইইউ নিশ্চিত করেছে যে, প্রধান কার্যালয়ে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার (সিএএমএলসিও) অধীনে এই বিশেষ কমপ্লায়েন্স ইউনিট পরিচালিত হবে। প্রতিষ্ঠানের আকার ও গ্রাহক সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে সেখানে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শাখা, এজেন্ট ও নেটওয়ার্কের জন্য ইলেকট্রনিক কেওয়াইসি (e-KYC) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো ধরনের বেনামি বা ছদ্মনামী গ্রাহকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকিং বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) মাধ্যম ছাড়া প্রতিদিন ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ লেনদেন হলে, তা পরবর্তী মাসের প্রথম সাত কর্মদিবসের মধ্যে বিএফআইইউর পোর্টালে রিপোর্ট করতে হবে।
এছাড়া উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাহক এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের (PEPs) অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করতে বলা হয়েছে। যেকোনো সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য দ্রুত বিএফআইইউকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
যেকোনো পলিসি বন্ধ বা বীমা দাবি নিষ্পত্তির পর সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য, গ্রাহকের নথিপত্র এবং অডিট রিপোর্ট অন্তত ৫ বছরের জন্য নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে। আইন লঙ্ঘনে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।