ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জাপানের বাণিজ্য ঘাটতি ২.৮১ ট্রিলিয়ন ইয়েন

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জাপানের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৮১ ট্রিলিয়ন ইয়েনে (প্রায় ১৭.৮ বিলিয়ন ডলার)। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।

তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে জাপানের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৬৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, আমদানি বেড়েছে ২০ দশমিক ৪ শতাংশ। এ সময়ে আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েনে।

রপ্তানি ও আমদানি—দুই ক্ষেত্রেই এটি জাপানের রেকর্ড। তবে আমদানির প্রবৃদ্ধি রপ্তানির চেয়ে বেশি হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেড়েছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু আমদানি ব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহন ও জাহাজ চলাচলের ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। এতে দেশটির বিভিন্ন শিল্প খাত চাপের মুখে পড়ছে।

প্রাকৃতিক সম্পদে সীমিত জাপান তার প্রয়োজনীয় প্রায় সব অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহের জন্য দেশটি দীর্ঘদিন ধরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে এই নৌপথে চলাচল কার্যত বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প রুটে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে জাপানকে। এতে পরিবহন ব্যয় ও আমদানি মূল্য বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ফেব্রুয়ারিতে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ১১০ ডলারে পৌঁছেছে। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি জাপানের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

এদিকে, শুধু সেপ্টেম্বর মাসে জাপানের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৫৩৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইয়েন। আগের মাস আগস্টে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন। সেপ্টেম্বরের ঘাটতি কমলেও টানা পাঁচ মাস ধরে বাণিজ্য ঘাটতির ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।