দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ অর্থনীতি মালয়েশিয়া এতদিন বাংলাদেশি কর্মীদের প্রধান কর্মসংস্থান ও শিক্ষার্থীদের পছন্দের জায়গা হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত এক অভাবনীয় সাফল্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
চীনা পণ্যের দীর্ঘদিনের আধিপত্য কাটিয়ে মালয়েশিয়ার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে এখন বাংলাদেশি পোশাকের জয়জয়কার।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের বিখ্যাত কেডব্লিউসি (KWC) শপিং মল ঘুরে এই পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। ১৫ তলাবিশিষ্ট সাড়ে চারশ আউটলেটের এই বিশাল পাইকারি বাজারে সিংহভাগ দোকানই এখন বাংলাদেশি পোশাকে ঠাসা। স্থানীয় ফ্যাশন ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি চিনের ব্যবসায়ীরাও এখন বাংলাদেশ থেকে আসা সাশ্রয়ী ও গুণগত পোশাকের দিকে ঝুঁকছেন।
দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ার পাইকারি বাজার চীন, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার দখলে থাকলেও তা এখন বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণে আসছে। লিটন হোসেন নামে এক প্রবাসী ব্যবসায়ী জানান, এই কেডব্লিউসি মল থেকেই মালয়েশিয়ার প্রায় ১৩টি রাজ্যে পাইকারি মূল্যে পোশাক সরবরাহ করা হয়। ফলে বাংলাদেশি পোশাকের চাহিদা দ্রুত গতিতে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় বাজারে এমন পরিবর্তনের প্রধান কারণ হিসেবে পণ্যের ধরন ও ক্রেতাদের পছন্দকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। চাইনিজ পোশাক তুলনামূলক দামি ও দীর্ঘস্থায়ী হলেও মালয়েশিয়ার সাধারণ মানুষ ঘন ঘন নতুন ডিজাইনের পোশাক পরতে পছন্দ করেন। কম দামে মানসম্মত ও ট্রেন্ডি পোশাক সরবরাহ করতে পারায় বাংলাদেশি গার্মেন্টস পণ্য অতি দ্রুত ক্রেতাদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে।
অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের মতে, এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং কাঙ্ক্ষিত শুল্ক ছাড় পাওয়া গেলে, ইউরোপ ও আমেরিকার পর মালয়েশিয়াই হতে পারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় নতুন আন্তর্জাতিক বাজার।