ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২৩ সালে ব্যাংক-কোম্পানি আইনে অধিকতর সংশোধনী এনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকসংখ্যা ২০ জন হলে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা সর্বনিম্ন তিনজন হবে। একই সঙ্গে একক পরিবারের তিনজনের বেশি একই সময়ে ব্যাংকের পরিচালক থাকতে পারবেন না।
রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে ব্যাংক কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং পরিচালকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কিত নীতিমালাসংক্রান্ত এক সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ব্যাংকে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণয়ন এবং ব্যাবসায়িক কার্যক্রম যথাযথ ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য উপযুক্ত ও পেশাগতভাবে দক্ষ ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন প্রয়োজন।
ব্যাংকের কর্মকাণ্ড প্রধানত আমানতকারীদের অর্থে পরিচালিত হয় এবং এ ক্ষেত্রে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা অপরিহার্য বিধায় ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব অপরাপর কোম্পানির তুলনায় অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২৩ সালে ব্যাংক-কোম্পানি আইনে অধিকতর সংশোধনী আনা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে, ব্যাংক খাতে সুশাসনের নিশ্চয়তা বিধানের লক্ষ্যে পরিচালনা পর্ষদের গঠন, পরিচালকের দায়িত্ব ও কর্তব্যসহ তদ্সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিম্নোক্ত নীতিমালা অনুসরণের জন্য নির্দেশনা জারি করা হলো।
নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ গঠনে বলা হয়েছে ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারধারক পরিচালক, শেয়ারধারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক এবং স্বতন্ত্র পরিচালকের সমন্বয়ে গঠিত হবে।
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিকল্প পরিচালকও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হবেন; পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকসংখ্যা হবে সর্বোচ্চ ২০ জন; পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকসংখ্যা ২০ জন হলে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা হবে সর্বনিম্ন ৩ জন এবং পর্ষদের পরিচালক সংখ্যা ২০ জনের কম হলে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা হবে সর্বনিম্ন ২ জন; কোনো একক পরিবার থেকে ৩ জনের অধিক সদস্য একই সময়ে কোনো ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালক পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবে না; পরিচালনা পর্ষদে কোনো একক পরিবারের সদস্যের অতিরিক্ত উক্ত পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বা নিয়ন্ত্রণাধীন অনধিক ২টি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক থাকতে পারবেন; পরিচালনা পর্ষদে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে একের অধিক ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক নিযুক্ত হতে পারবেন না; পরিচালনা পর্ষদে কোনো প্রাকৃতিক ব্যক্তিসত্তাবিশিষ্ট ব্যক্তি শেয়ারধারকের পক্ষে অপর কোনো ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হতে পারবেন না; ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১৫কক ধারা অনুযায়ী ২৮ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখ থেকে কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালক পদে একাদিক্রমে ১২ বছরের অধিক সময় অধিষ্ঠিত থাকতে পারবে না। উক্ত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ৩ বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি উক্ত ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালক পদে পুনর্নিযুক্ত হওয়ার যোগ্য হবেন না; ব্যাংক-কোম্পানির প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভায় সকল পরিচালক অবসর গ্রহণ করবেন। পরবর্তী সময়ে প্রতি বার্ষিক সাধারণ সভায় জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে এক-তৃতীয়াংশ পরিচালক অবসর গ্রহণ করবেন। এ ক্ষেত্রে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর তফসিল-১-এর ৮০ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অবসর গ্রহণকারী পরিচালক পুনরায় নিযুক্তির জন্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন।
নীতিমালায় আরও বলা হয়, ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালক পদে নিযুক্ত হওয়ার জন্য নিম্নরূপ যোগ্যতা ও উপযুক্ততা থাকতে হবে- সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অন্যূন ১০ বছরের ব্যবস্থাপনা বা ব্যাবসায়িক বা পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে; কোনো ব্যক্তির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর কোনো কাজের অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় নেওয়া হবে না; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ন্যূনতম বয়স ৩০ বছর হতে হবে; তিনি ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হননি কিংবা কোনো জাল-জালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ বা অন্যবিধ অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন না বা জড়িত নন; তাঁর সম্পর্কে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলায় আদালতের রায়ে কোনো বিরূপ পর্যবেক্ষণ বা মন্তব্য নেই; তিনি আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট কোনো নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের বিধিমালা, প্রবিধান, নীতিমালা বা নিয়মাচার লঙ্ঘনজনিত কারণে দণ্ডিত হননি; তিনি এমন কোনো কোম্পানি প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন না, যার নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বা প্রতিষ্ঠানটি অবসায়িত হয়েছে।
এ ছাড়া নীতিমালায় পরিচালকদের ক্ষমতা, ঋণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ, স্বতন্ত্র পরিচালক সংক্রান্ত বিশেষ নির্দেশনা, চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের দায়িত্বসহ বেশ কিছু বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।