ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার চলমান যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব এখন বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের পকেটে গিয়ে পড়ছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি থেকে শুরু করে সুপারস্টোরের পন্যের দাম—সবকিছুতেই যুদ্ধের ছাপ স্পষ্ট। তবে সবচেয়ে বড় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এভিয়েশন বা আকাশপথ এবং পর্যটন খাতে। এই পরিস্থিতিতে আপনার পূর্বনির্ধারিত ভ্রমণ পরিকল্পনা বা সামনের ছুটির দিনগুলো নিয়ে কী করবেন, তা নিয়ে একটি বিস্তারিত গাইডলাইন দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
এখনই কি টিকিট বুক করবেন না কি অপেক্ষা করবেন?
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় এয়ারলাইন্সগুলো দ্রুত টিকিটের দাম বাড়াতে শুরু করেছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের সিইও স্কট কিরবি জানিয়েছেন, জেট ফুয়েলের বাড়তি খরচ খুব শীঘ্রই যাত্রীদের ওপর চাপানো হবে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এই বছরের বাকি সময়ের জন্য যদি আপনার কোনো ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকে, তবে দেরি না করে এখনই টিকিট কেটে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কারণ যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে টিকিটের দাম আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারে।
আকাশপথে ‘বিরাট গর্ত’ ও দীর্ঘ যাত্রা
ইউরোপ এবং এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগের প্রধান সেতু হলো মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ। বর্তমানে ইরান, ইরাক, বাহরাইন ও কুয়েতের আকাশপথ পুরোপুরি বন্ধ এবং ইসরায়েল, কাতার ও আমিরাতের আকাশপথ সীমিত। একে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘আকাশের গর্ত’। এখন বিমানগুলোকে জর্জিয়া, আজারবাইজান অথবা মিশর-ওমান হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে ফ্লাইটের সময় বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি খরচও বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভাড়ার ওপর।
পর্যটনে বিশাল ক্ষতি
ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের মতে, এই সংঘাতের কারণে পর্যটন খাতে প্রতিদিন প্রায় ৬০ কোটি ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে দুবাই, দোহা এবং আবুধাবির মতো বড় গন্তব্যগুলো এখন প্রায় পর্যটকশূন্য। এমনকি তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও ভ্রমণের ক্ষেত্রে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিমা বা ইন্স্যুরেন্স কি কাজ করবে?
সাধারণত বেশিরভাগ ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স পলিসিতে ‘যুদ্ধ’ (War) বা ‘যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি’ অন্তর্ভুক্ত থাকে না। অর্থাৎ আপনি যদি যুদ্ধের কারণে আটকে পড়েন বা ফ্লাইট বাতিল হয়, তবে বিমা কোম্পানি থেকে টাকা পাওয়া কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে আপনার দেশ যদি ‘লেভেল-৪’ (ভ্রমণ করবেন না) সতর্কতা জারি করে এবং আপনি তা অমান্য করে ওই দেশে যান, তবে আপনার বিমা বাতিল হয়ে যাবে।
প্রমোদতরি ও রেল ভ্রমণ
সমুদ্রপথে চলাচলকারী বিলাসবহুল ক্রুজ শিপ বা প্রমোদতরিগুলো তাদের মার্চ মাসের সব যাত্রা বাতিল করেছে। অন্যদিকে, যেসব দেশে ডিজেল চালিত ট্রেন চলে, সেখানেও ভাড়ার দাম বাড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়া বা থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো জ্বালানিতে ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।
যদি আপনার ভ্রমণ খুব জরুরি না হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্য বা তার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে এই মুহূর্তে না যাওয়াই ভালো। আর যদি টিকিট কাটতেই হয়, তবে এমন পলিসি বা এয়ারলাইন্স বেছে নিন যারা রিফান্ড বা তারিখ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নমনীয়।