দিনে দিনেই ঘুরে আসতে পারবেন যে ৫টি দর্শনীয় স্থান

প্রবাহমান জীবনে আমাদের কর্মব্যস্ততা থাকে সবসময়ই। এতে একঘেঁয়েমি ভর করে মনকে করে তোলে অসুস্থ। তাই সমস্ত ব্যস্ততার মধ্যেও সময় করে ঘুরে বেড়ানো প্রয়োজন। এতে শরীর ও মন দুটোই সুস্থ থাকে। ফলে ব্যস্ততার ফাঁকে একান্তে সময় কাটাতে অনেকেই ছুটে যান কক্সবাজার, সিলেট কিংবা বান্দরবানে। কিন্তু সময় স্বল্পতায় সবসময় ঢাকার বাইরে যাওয়া যায় না। তাই হাতে সময় কম থাকলে এক দিনের ছুটিতে পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে ঢাকার কাছেই ঘুরে আসা যায় এমন জায়াগা খোঁজেন অনেকে।

ভ্রমণপ্রেমীরা জেনে নিন ঢাকা থেকে একদিনে ঘুরে আসা যায় এমন ৫টি দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে-

পানাম নগর-সোনারগাঁও জাদুঘর:  
পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংসপ্রায় ঐতিহাসিক শহরের একটি পানাম নগর। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ঐতিহাসিক পানাম নগর। ১৫ শতকে ঈশা খাঁ সোনাগাঁওয়ে বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। এখানে কয়েক শতাব্দীর পুরোনো অনেক ভবন রয়েছে, যা বাংলার বার ভূইয়াঁদের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। 
এসব পুরোনো বাড়িগুলো আর তার সৌন্দর্য দেখে দিন পার হয়ে যাবে। এছাড়াও পানাম নগরের কাছেই আছে সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর। একদিনে দুটি জায়গা সহজেই ঘুরে দেখা যায়।

পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংসপ্রায় ঐতিহাসিক শহরের একটি পানাম নগর। ছবি: সংগৃহীত

যেভাবে যাবেন: রাজধানীর গুলিস্তান থেকে দোয়েল, স্বদেশ কিংবা বোরাকের এসি বাসে করে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা নামতে হবে।মোগড়াপাড়া থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে পানাম নগরীতে যেতে পারবেন।

নুহাশ পল্লী: ঢাকার আশপাশে দর্শনীয় স্থানের মধ্যে নুহাশ পল্লী অন্যতম। এক সময়ের গল্পের জাদুকর, বিখ্যাত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের নিজের হাতের স্পর্শে গড়া এই পল্লী বাগান বাড়ি। এখানে যেতে পারেন আপনার প্রিয়জন, পরিবার সবাইকে নিয়ে। একদিনের মধ্যে ঘুরে আসতে পারেন নুহাশ পল্লী থেকে।

কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের গড়া এই নুহাশ পল্লী। ছবি সংগৃহীত

হুমায়ুন আহমেদ তার কল্পনার সমস্ত কিছুই এখানে বাস্তবে রূপ দিয়ে গেছেন। এখানে আছে বৃষ্টি বিলাস, ভূত বিলাস নামের বাড়ি, ট্রি হাউজ, বিভিন্ন ভাস্কর্য, প্রায় ৩০০ প্রজাতির বিভিন্ন গাছের বাগান। পদ্ম পুকুর, মৎস্য কন্যা, প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীদের অনুকীর্তি দেখতে পাবেন। আর নুহাশ পল্লীর লিচুতলায় তার সমাধিস্থল দেখে আসতে পারেন।

যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে বাসে করে প্রথমে গাজীপুরের হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ড নামতে হবে। এখানে নেমে রিকশা বা সিএনজিতে নুহাশ পল্লী অনায়াসে যাওয়া যায়। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে হোতাপাড়া বাজারের পিরুজালী গ্রামে এই নুহাশ পল্লী অবস্থিত।

মিনি কক্সবাজার মৈনট ঘাট: ঢাকার পাশে অল্প সময়ের মধ্যে মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনট ঘাট থেকে খুব সহজেই ঘুরে আসতে পারেন। ঢাকার অদূরে দোহার উপজেলায় অবস্থিত এই জায়গা আপনাকে সাগরের কথা মনে করিয়ে দেবে। মৈনট ঘাটকে মিনি কক্সবাজার নামে ডাকা হয়। এ ঘাটে সূর্যাস্তের সুন্দর দৃশ্য আপনার ভালো লাগবে।

পদ্মার তীরে অবস্থিত ঐমনট ঘাট। ছবি: সংগৃহীত

ঘাটের সঙ্গে বিশাল চরে সমুদ্রের বেলাভূমির স্বাদ নিতে পারেন। ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় এই জায়গাটা ভ্রমণ প্রিয় মানুষের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এছাড়া পদ্মার ইলিশ খাওয়া কিংবা নৌকায় ঘোরার ইচ্ছা থাকলেও ঘুরতে পারবেন। এই ঘাটে কাটিয়ে যেতে পারেন একটি সুন্দর বিকেল।

যেভাবে যাবেন: গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারের সামনে থেকে বাসে করে সরাসরি দোহারের মৈনট ঘাটে যাওয়া যায়।

জিন্দা পার্ক: কম সময়ে ও কম খরচে সবুজের মাঝে হারাতে চাইলে যেতে পারেন পূর্বাচল হাইওয়ের কাছেই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত জিন্দা পার্কে। ঢাকা থেকে দূরত্ব মাত্র ৩৭ কিলোমিটার। খাওয়া-দাওয়ার জন্য পার্কের ভেতরেই রেস্টুরেন্ট আছে। এছাড়া রাতে থাকার জন্যও আছে গেস্ট হাউস।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত জিন্দা পার্ক। ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নে ১৫০ একর জায়গা নিয়ে এই জিন্দা পার্কটি গড়ে উঠেছে। পার্কটিতে ২৫০ প্রজাতির ১০ হাজারের বেশি গাছ, ৫টি জলধার ও অসংখ্য পাখি রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ক্যান্টিন, লাইব্রেরি, চিড়িয়াখানা, ৮টি সুসজ্জিত নৌবহর।

যেভাবে যাবেন: ঢাকার কুড়িল-বিশ্বরোড এসে ৩০০ ফিট রাস্তার প্রান্ত থেকে লোকাল সিএনজি বা লেগুনা দিয়ে কাঞ্চন ব্রিজ আসুন। কাঞ্চন ব্রিজের আগে বাইপাসের মোড় থেকে অটোরিকশায় জিন্দা পার্ক যাওয়া যায়। এছাড়া চাইলে কুড়িল ৩০০ ফিট রাস্তা থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা রিজার্ভ নিয়ে সরাসরি জিন্দা পার্ক যাওয়া যায়।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক: ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘের বাজার থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার পশ্চিমে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক অবস্থিত। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে প্রায় ৩ হাজার ৬৯০ একর জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে পার্কটি। এই পার্কে প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্য প্রাণীদের বিচরণ দেখতে সারা বছরই দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। ছবি: সংগৃহীত

এছাড়া এখানে রয়েছে পাখি শালা, প্রজাপতি সাফারি, জিরাফ ফিডিং স্পট, অর্কিড হাউজ, শকুন ও পেঁচা কর্নার, এগ ওয়ার্ল্ড, বোটিং, লেইক জোন, আইল্যান্ড, প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র, ফ্যান্সি কার্প গার্ডেন আরো অনেক বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীর সমারোহ।

যেভাবে যাবেন: গাজীপুরের বাঘের বাজার থেকে খুব সহজেই আপনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে যেতে পারবেন।