বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা কত, জানালেন ইরানি কর্মকর্তা

ইরানে অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া নজিরবিহীন সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। 

রোববার(১৮ জানুয়ারি) একজন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে নিহতদের মধ্যে অন্তত ৫০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই দেশটিতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী জনবিক্ষোভ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। 

তেহরান এই ব্যাপক প্রাণহানির জন্য ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘সশস্ত্র দাঙ্গাকারীদের’ দায়ী করলেও বিক্ষোভকারীদের দাবি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতেই সাধারণ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এখন ইরানের জন্য নতুন নেতৃত্ব খোঁজার উপযুক্ত সময়। 

এর আগে ট্রাম্পের চাপের মুখে তেহরান ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করায় তিনি নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। 

এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জনসমক্ষে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে এই রক্তপাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন। 

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান কোনো যুদ্ধে জড়াতে চায় না তবে অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক অপরাধীদের বিচার ছাড়া ছেড়ে দেওয়া হবে না। খামেনি দাবি করেন বিদেশি ইন্ধনেই বিক্ষোভকারীরা অস্ত্র হাতে রাস্তায় নেমেছে। এই বক্তব্যের পর ইরানের বিচার বিভাগ ইঙ্গিত দিয়েছে যে স্থগিত হওয়া মৃত্যুদণ্ডগুলো আবারও কার্যকর করা হতে পারে। 
 
দেশটির বিচার বিভাগ বর্তমানে গ্রেপ্তার হওয়া অনেক বিক্ষোভকারীর কর্মকাণ্ডকে ‘মোহারেব’ বা আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। 

গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে পুরো ইরান জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।