সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৩৭টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০৯টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান। আবুধাবি বিমানবন্দরে কর্তৃপক্ষ যেটিকে একটি ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, সেখানে অন্তত একজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দর দুবাই এয়ারপোর্টও এই হামলার শিকার হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিতিদ্তক সংভাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
২০২৬ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন কেবল ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান যে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করেছে, তার বড় লক্ষ্যবস্তু হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)।
আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, শনিবার একদিনেই ইরান অন্তত ১৩৭টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০৯টি আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে দেশটিতে হামলা চালিয়েছে। এই হামলার লক্ষ্য ছিল মূলত আমিরাতের প্রধান অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ কেন্দ্রগুলো। আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ফলে একজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশ্বের অন্যতম প্রধান ট্রাফিক হাব হওয়ায় সেখানেও হামলার ফলে, বৈশ্বিক বিমান চলাচল ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইসরায়েলের সাথে ক্রমবর্ধমান সুসম্পর্কের কারণে ইরানের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই হামলার ফলে আমিরাতের মতো একটি নিরাপদ ও পর্যটন-নির্ভর দেশের নিরাপত্তা ইমেজ বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এছাড়া আবুধাবি ও দুবাইয়ের মতো ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে হামলার প্রভাব পড়েছে সরাসরি তেলের বাজারে এবং আন্তর্জাতিক শেয়ার মার্কেটে।
উপসংহার: ইরানের এই ‘স্যাচুরেশন অ্যাটাক’ (একই সাথে অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া) প্রমাণ করে যে, তেহরান এখন যেকোনো মূল্যে পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের বিস্তৃতি ঘটাতে প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বর্তমানে আমিরাতের আকাশসীমা নিরাপদ করা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।