যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে নতুন ৫ শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের, তেহরানের প্রত্যাখ্যান

আপডেট : ১৭ মে ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

চলমান সামরিক উত্তেজনা নিরসনে ইরানের সামনে পাঁচটি বড় শর্ত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শর্তগুলো মানলেই কেবল দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের বিষয়টি বিবেচনা করবে ওয়াশিংটন। তবে তেহরান এই শর্তগুলোকে ‘অবাস্তব’ এবং ‘একতরফা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এবং ইসরায়েলি গণমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজের তথ্যমতে, ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
১. ইরানকে অন্তত ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
২. ইরানের একাধিক পারমাণবিক স্থাপনার মধ্যে কেবল একটি স্থাপনা সচল রাখা যাবে।
৩. বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদের বড় একটি অংশ (অন্তত ২৫ শতাংশ) মুক্ত করা হবে না।
৪. অতীতে নিষেধাজ্ঞা ও নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ দেবে না যুক্তরাষ্ট্র।
৫. চুক্তি হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক হুমকির অবসান ঘটবে না, বিশেষ করে ইসরায়েলের হামলার হুমকি বহাল থাকবে।

ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন সব দাবি আদায়ের চেষ্টা করছে যা তারা যুদ্ধের মাধ্যমেও অর্জন করতে পারেনি। তেহরান আলোচনার আগে ‘বিশ্বাস স্থাপনের’ জন্য পাল্টা পাঁচটি দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ করা, ইরানের ওপর থেকে সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ পুরোপুরি মুক্ত করা, যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে কূটনীতিকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করছে। 

অন্যদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনার নামে নতুন কোনো সামরিক হামলা চালানো হলে তার জবাবে ‘আরও কঠোর ও বিধ্বংসী’ আঘাত হানা হবে। সূত্র: এনডিটিভি

FJ
আরও পড়ুন