খামেনির উত্তরসূরিকেও হত্যার হুমকি ইসরায়েলের

ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতাকেও সরাসরি ‘হত্যার’ হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল। বুধবার (৪ মার্চ) দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, ইরানের যে কোনো নতুন নেতা ইসরায়েল ধ্বংসের পরিকল্পনা চালিয়ে গেলে, তিনি নিশ্চিতভাবে হত্যার লক্ষ্যবস্তু হবেন। তুর্কিয়া টুডে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন এ তথ্য উঠে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে কাৎজ বলেন, ‘ইরানের সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থা যদি এমন কোনো নেতাকে নির্বাচন করে, যিনি ইসরায়েল ধ্বংসের পরিকল্পনা চালিয়ে যাবেন, যুক্তরাষ্ট্র, মুক্ত বিশ্ব ও আঞ্চলিক দেশগুলোকে হুমকি দেবেন এবং ইরানি জনগণকে দমন করবেন- তাহলে তার নাম বা তিনি কোথায় লুকিয়ে আছেন, তা বিবেচ্য হবে না; তিনি অবশ্যই হত্যার লক্ষ্যবস্তু হবেন।’

কাটজ আরও জানান তিনি ও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন-অপারেশন রোরিং লায়ন’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই মিশন সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে বড় ধরনের নেতৃত্ব সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ইরানের ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ (Assembly of Experts) নতুন একজন উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ঠিক এমন সময়েই ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই চরম হুঁশিয়ারি এলো।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে কেবল ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতেই হামলা চালাচ্ছে না, বরং তারা দেশটির ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব কাঠামোকেও ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের শাসনব্যবস্থাকে পুনর্গঠন হতে না দেওয়া এবং নতুন নেতৃত্বকে শুরুতেই চাপে রাখাই ইসরায়েলের এই হুমকির মূল উদ্দেশ্য।

ইসরায়েলের এই বিবৃতি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে ঘি ঢেলেছে। এর মাধ্যমে ইসরায়েল স্পষ্ট করে দিলো যে, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার যেকোনো পর্যায়কেই তারা ছাড় দিতে রাজি নয়। তবে ইসরায়েলের এই প্রকাশ্য হুমকির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্র: ফক্স নিউজ