মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ওই অঞ্চলের দেশগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষা (এয়ার ডিফেন্স) ব্যবস্থা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এক রেডিও সাক্ষাৎকারে এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন।
মেলোনি জানান, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানির মতো ইতালিও উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর আকাশপথ নিরাপদ রাখতে এই সহায়তা পাঠাচ্ছে। এর নেপথ্যে কৌশলগত কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘উপসাগরীয় দেশগুলো আমাদের মিত্র, এটি যেমন সত্য, তেমনি আমাদের হাজার হাজার নাগরিক বর্তমানে ওই দেশগুলোতে বসবাস করছেন। এছাড়া ওই অঞ্চলে প্রায় ২ হাজার ইতালীয় সেনা মোতায়েন আছে। এই বিপুল সংখ্যক নাগরিক ও সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।’
উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ ২১ দিনের কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটিতে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইসরায়েলও শুরু করে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’। এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য ৬টি দেশ-সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং ওমানের মধ্যে বর্তমানে কুয়েত এবং আরব আমিরাতে ইতালির সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আকাশপথে ইরানের সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে মিত্র দেশগুলো ও নিজেদের সেনাদলকে রক্ষা করতেই রোম এই সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।